টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের রান আর রেকর্ডের জোয়ারে ভেসে গেল ওমান। কলম্বোতে ৯৬ রানের জয়ে তিন ম্যাচে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল আইরিশরা। হ্যাটট্রিক পরাজয়ে এবারের বিশ্বকাপে সবার আগে বিদায় নিশ্চিত হলো ওমানের।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে শনিবার টসে জিতে আয়ারল্যান্ডকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান ওমান অধিনায়ক যতিন্দর সিং। ব্যাটে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৩৫ রানের সংগ্রহ গড়ে আয়ারল্যান্ড। এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত এটি সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ তো বটেই, এই সংস্করণের বিশ্বকাপের ইতিহাসেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ২০০৭ আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬০ তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে ১৮ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রানে থামে ওমান।
আয়ারল্যান্ডের শুরুটা কিন্তু ভালো ছিল না। টপ অর্ডারে তিন উইকেট পড়েছে ৫ ওভারের মধ্যে ৪৫ রানে। ৭.৩ ওভারে ৬৪ রানে পড়েছে চতুর্থ উইকেট। এর মধ্যে ফিরে যান টিম টেক্টর (৫), রস আদাইর (১৪), হ্যারি টেক্টর (১২) ও কার্টিস ক্যাম্ফার (১৪)। তখন আইরিশ সমর্থকেরাও নিশ্চয়ই এত বড় দলীয় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখেননি।
কিন্তু সেটা সম্ভব হয়েছে অবিশ্বাস্য দুটি জুটির কারণে। পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক লোরকান টাকার ও গ্যারেথ ডেলানির ৫৬ বলে ১০১ রানের জুটি যদি দুর্দান্ত হয়, তাহলে ষষ্ঠ উইকেটে টাকারের সঙ্গে জর্জ ডকরেলের ১৯ বলে ৭০ রানের জুটিটি অবিশ্বাস্য।
১০ চার ও ৪ ছক্কায় টাকারের ব্যাট থেকে এসেছে ৫১ বলে অপরাজিত ৯৪। ডেলানি করেন ৩০ বলে ৫৬ এবং ৯ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন ডকরেল। শেষ ৫ ওভারে ৯৩ রান তুলেছে আয়ারল্যান্ড, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘ডেথ ওভারে’ তৃতীয় সর্বোচ্চ। টাকার এবং ডকরেলের অবিচ্ছিন্ন ৭০ রানের জুটিতে অবশ্য নতুন রেকর্ড হয়েছে। তাদের এই জুটিতে ওভারপ্রতি রান উঠেছে ২২.১০ করে!
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে কোনো জুটিতে ওভারপ্রতি গড়ে এত বেশি রান ওঠেনি। টাকার-ডকরেল এ পথে পেছনে ফেলেন ২০১০ আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসি-মিচেল জনসনের জুটিকে। ১৬ বলে ৫৩* রানের সেই জুটিতে তারা ওভারপ্রতি ১৯.৮৭ করে তুলেছিলেন।
বিশাল রান তাড়ায় ১১ ওভারে শতরানের কাছাকাছি যাওয়া ওমানের ব্যাটিং পরে মুখ থুবড়ে পড়ে। গুটিয়ে যায় ১৪০ রানে। ৪২ রানের মধ্যে হারায় তারা শেষ ৮ উইকেট।





