নিজস্ব প্রতিনিধি: চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের দাবিতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার শৌলমারী তিস্তা চরে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় একযোগে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে লালমনিরহাটের এ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ফিরোজ হায়দার লাভলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব আলম সালেহী এবং মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
এ সময় বক্তব্য দেন আবু তাহের, আনোয়ারুল ইসলাম রাজুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুব আলম সালেহী বলেন, “চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা ছাড়া অন্য কোনো প্রকল্প এ অঞ্চলের মানুষ মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত সমীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন প্রয়োজন বাস্তবায়নের উদ্যোগ। আমরা আন্দোলনের কৃতিত্ব চাই না, চাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন। সরকার দ্রুত কাজ শুরু করুক, কৃতিত্ব তারাই নিক।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদে ইতোমধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। চলতি বাজেটেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব। সম্প্রতি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তিস্তা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ফলে তিস্তা নদীর বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার অবগত রয়েছে। তিস্তা পাড়ের মানুষ শুধু নদী খনন, ড্রেজিং কিংবা বাঁধ নির্মাণ নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চায়।
বক্তারা বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙন, বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে প্রতিবছর লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। কৃষি, পরিবেশ ও উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় বাজেটের তুলনায় এ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ খুবই সামান্য। তাই জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একনেকে অনুমোদন দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
আরও পড়ুনঃ
মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং তিস্তা পাড়ের শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।



