চলচ্চিত্রে সুদিন ফেরানোর ডাক | চ্যানেল আই অনলাইন

ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে রাজধানীর মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হলে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব। শনিবার (২২ আগস্ট) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়োজনে ‘উৎসবে, গর্বে, দায়িত্বে’ প্রতিপাদ্যে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মধুমিতা হলে ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাস থেকে বাছাই করা ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী সিনেমা বিনামূল্যে প্রদর্শিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দেশের চলচ্চিত্র অনেকটা জৌলুস হারিয়েছে। চলচ্চিত্র অঙ্গনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় চলচ্চিত্র অনেক জৌলুস হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চলচ্চিত্র অঙ্গনের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করবে।’

চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনরায় গতিশীল করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে একযোগে কাজ করবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর আশা, দর্শকদের ভালো সিনেমা উপহার দিতে পারলে দেশের চলচ্চিত্রে আবারও সুদিন ফিরবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন চলচ্চিত্রকে দেশপ্রেম, মানবিকতা ও কল্যাণবোধ তৈরির অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রকে সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে দেশপ্রেম, কল্যাণ ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করা যায়।’

দেশে সিনেমা হলের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একসময় সারাদেশে সাড়ে আটশোর বেশি সিনেমা হল চালু থাকলেও বর্তমানে এর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ও আধুনিক মাল্টিমিডিয়ার সহজলভ্যতায় দর্শকদের রুচি ও মনোজগতে পরিবর্তন এসেছে। তাই দর্শকদের রুচি বিবেচনায় রেখে নির্মাতাদের সিনেমা নির্মাণ করতে হবে।

একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী ও কলাকুশলীদের জীবিকা ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু তাঁদের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একটি জাতির অগ্রগতির জন্য তার ভাষা, সাহিত্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধারণ করা জরুরি। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে চলচ্চিত্র ও গানের অবদান ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

ঢাকার গৌরবময় ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আগামী সাত দিন পরিবার ও প্রিয়জনদের নিয়ে মধুমিতা হলে বিনামূল্যে সিনেমা দেখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান ও ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।

৫৮ গুণীজন ও তিন প্রেক্ষাগৃহকে সম্মাননা

‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রবীণ ও নবীন শিল্পী, পরিচালক, লেখক, সংগীতশিল্পী, গীতিকার, চিত্রগ্রাহকসহ মোট ৫৮ জন বিশিষ্ট শিল্পী ও কুশলীকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

জীবন্ত কিংবদন্তিদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী সুজাতা, সুচন্দা, আনোয়ারা, ববিতা, নূতন, চম্পা ও শাবনাজ; অভিনেতা উজ্জ্বল, সোহেল রানা, আলমগীর, খাজা নাঈম মুরাদ ও আজাদ রহমান শাকিল। সম্মাননা পাচ্ছেন গীতিকার মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান ও মনিরুজ্জামান মনির, সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম ও আবিদা সুলতানা, সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান ও শওকত আলী ইমন এবং চিত্রগ্রাহক রেজা লতিফ ও শফিকুল ইসলাম স্বপন।

এ ছাড়া পরিচালক ছটকু আহমেদ, হাফিজ উদ্দীন, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মতিন রহমান, সাইদুর রহমান সাঈদ ও আওকাত হোসেনকেও সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বহু কিংবদন্তি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পরিচালক আবদুল জব্বার খান, নাজির আহমেদ, খান আতাউর রহমান, জহির রায়হান, এহতেশাম, মুস্তাফিজ, আমজাদ হোসেন, সুভাষ দত্ত, দিলীপ বিশ্বাস ও চাষী নজরুল ইসলাম। অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল মতিন, খলিল উল্লাহ খান, নায়করাজ রাজ্জাক, রোজী আফসারী, খান জয়নুল, প্রবীর মিত্র ও বুলবুল আহমেদ।

এ ছাড়া গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সংগীত পরিচালক আনোয়ার পারভেজ ও আলাউদ্দীন আলী, সংগীতশিল্পী আজম খান ও এন্ড্রু কিশোর এবং চিত্রগ্রাহক আফজাল চৌধুরী ও এম এ সামাদকে দেওয়া হচ্ছে মরণোত্তর সম্মাননা।

চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য সম্মাননা পাচ্ছেন চিন্ময় মুৎসুদ্দী, রফিকুজ্জামান, অনুপম হায়াৎ, মাহমুদা চৌধুরী ও আবদুর রহমান। পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী লায়ন সিনেমা হল, আজাদ সিনেমা হল ও মধুমিতা সিনেমা হলকেও বিশেষ সম্মাননা জানানো হচ্ছে।

মধুমিতায় সপ্তাহজুড়ে বিনামূল্যে ১৩ সিনেমা

সপ্তাহব্যাপী উৎসবে দর্শকদের জন্য থাকছে বাংলা চলচ্চিত্রের ১৩টি উল্লেখযোগ্য সিনেমা। উদ্বোধনী দিন শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন ২৩ আগস্ট বিকেল ৩টায় দেখানো হবে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’।

২৪ আগস্ট বিকেল ৩টায় থাকছে জহির রায়হানের কালজয়ী ‘জীবন থেকে নেয়া’। একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে ‘নান্টু ঘটক’।

চতুর্থ দিন ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় ‘অশিক্ষিত’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘রংবাজ’ প্রদর্শিত হবে। GeographicReference

পঞ্চম দিনে বিকেল ৩টায় দর্শক দেখতে পারবেন ‘সবুজ সাথী’, আর সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে ‘নাচের পুতুল’। ষষ্ঠ দিন বিকেল ৩টায় ‘দূরদেশ’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে ‘দহন’।

২৮ আগস্ট উৎসবের শেষ দিন বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হবে ‘দোস্ত দুশমন’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘বধূ বিদায়’।

Scroll to Top