চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট শুরু হয়। বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আচল হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম।
যে চার দফা দাবিতে ধর্মঘট শুরু হয়েছে, সেগুলো হলো-
১. বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বা এনসিটি আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া।
২. বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা।
৩. আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করা ও
৪. আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া।
রমজান মাস ও জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধর্মঘট শুরু হলে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে, এই অচলাবস্থা নিরসনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চিঠি দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা।
এর আগে নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ৩১শে জানুয়ারি থেকে আট ঘণ্টা করে তিন দিন কর্মবিরতি পালন করেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
পরে মঙ্গলবার শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি। যা বুধবার থেকে থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে রূপ নেয়। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।
তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার আশ্বাসে কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছিলেন আন্দোলনকারীরা।
এরপরই আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়ার ঘটনায় বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনে রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।




