চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্মাণাধীন ২১টি স্লুইসগেটের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছ থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পাউবো ও চসিকের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। পাশাপাশি স্লুইসগেট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে ‘নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি ও স্লুইসগেট হস্তান্তর’ বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এ তথ্য জানান।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও সাঈদ আল নোমান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, চকবাজার, হিজড়া খাল ও বামনশাহী খালের কিছু অংশের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এসব কাজ দ্রুত শেষ হলে নগরবাসী প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন।
সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্লুইসগেটগুলোর বর্তমান নকশা ও আকার পানি নিষ্কাশনের জন্য যথাযথ কি না, তা পুনরায় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে নকশায় পরিবর্তন আনা উচিত।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, বারুনিঘাট ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন খাল ও নালার প্রবাহ এখনো বাধাগ্রস্ত। বিশেষ করে ১৬ নম্বর স্লুইসগেটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন জানান, প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজও সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করতে এখন থেকেই দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া পাঠানো হবে এবং চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্লুইসগেট, রেগুলেটর ও ড্রেনেজ অবকাঠামো কার্যকরভাবে পরিচালনার দায়িত্ব চসিকের কাছেই থাকা উচিত। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে সেনাবাহিনী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, স্লুইসগেট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা একটি দক্ষ টিম গঠন করা জরুরি। পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করে আবহাওয়া এবং জোয়ার-ভাটার তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে নগরীর ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও সচল রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।



