ঘন কুয়াশায় ‘লেট ব্লাইট’ শঙ্কায় রংপুরের আলুচাষিরা

ঘন কুয়াশায় ‘লেট ব্লাইট’ শঙ্কায় রংপুরের আলুচাষিরা

রংপুরে টানা কয়েকদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহে সূর্যের দেখা মিলেনি। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের সঙ্গে প্রকৃতিতে শীতের দাপট বেড়েছে। ফলে কয়েক দিনের ঘন কুয়াশায় লেট ব্লাইটের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের আলুচাষিরা। তবে আলুর রোগ প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আলুচাষিদের পরিমিত স্প্রে দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য সূত্রে, এবার রংপুর জেলায় আলুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ১৮০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ৫৩ হাজার ৯৩০ হেক্টর। এবারে লক্ষমাত্রার চেয়ে ৭৫০ হেক্টর বেশি আলুর চাষ হয়েছে রংপুরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আলুর ক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আলুর ক্ষেত দেখে ভালো মনে হলেও শঙ্কায় চাষিরা। নিয়মিত কুয়াশা কাটাতে স্প্রে করায় খরচ বাড়ছে।

ঘন কুয়াশায় ‘লেট ব্লাইট’ শঙ্কায় রংপুরের আলুচাষিরা

ঘন কুয়াশার সঙ্গে যুদ্ধ করে এখনও ভরা আলুর মাঠ রক্ষা করে চলেছেন আলুচাষিরা।

নগরীর খটখটিয়ার আলুচাষি নূর আলম বলেন, আলু ক্ষেতে ‘লেট ব্লাইট’ রোগ দেখা দিলে রাতারাতি পুরো ক্ষেত নষ্ট করে দেয়। এতে পুরো পরিশ্রম আর বিনিয়োগ মাটি হয়ে যায়। যদিও এখনও রোগ ধরেনি তবে আরও কয়েকদিন কুয়াশা হলে যে কোনো সময় রোগ ধরতে পারে। রংপুরে যে পরিমাণ ঘনকুয়াশা বিরাজ করছে তাতে ক্ষেতের ক্ষতির আশঙ্কাই করছি। এ জন্য আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছি।

নগরীর আলুটারীর হাফিজ উদ্দিন বলেন, আলু ক্ষেতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পরিমিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করতেছি। তবু ভয় কাটতেছে না। তবে আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি হয় নাই। বৃষ্টি হলে ক্ষতির শঙ্কা আরও বেশি থাকতো। একই কথা জানান বেশ কয়েকজন আলুচাষি।

তারা বলেন, আলুর ক্ষেত দেখে ফলন ভালো হবে আশা করি। কিন্তু ঘন কুয়াশার জন্যে সেই স্বপ্নে বুঝি ভাটা পড়ে নাকি সেই চিন্তায় ঘুম নাই। আলুর ক্ষেতেই রাত্রীযাপন করি। তবে বৃষ্টি না হলে খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার কথা না। নিয়মিত কৃষি অফিসের পরামর্শে ক্ষেতে পরিচর্চার কাজ চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুরের উপ-পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, কৃষি অফিস থেকে এই নিয়ে আলুচাষিদের নিয়মিত আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কৃষকদের পরিমিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও আলুর ক্ষেতের জন্য সবচেয়ে বেশির শঙ্কার কারণ হলো ঘন কুয়াশা। এই ঘন কুয়াশা দীর্ঘদিন থাকলে আলুর মধ্যে লেট ব্লাইট হতে পারে। এ বিষয়ে আমিসহ আমাদের কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে পরামর্শসহ সরেজমিনে আলুর ক্ষেত দেখা হচ্ছে। কোথাও কোন সমস্যা মনে হলে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে তিনি আলুচাষিদের লেট ব্লাইট থেকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

Scroll to Top