বল দখলে আধিপত্য, একের পর এক আক্রমণেও মেতেছিল বেলজিয়াম। তবে জালের দেখা মেলেনি রোমেলু লুকাকুদের। গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের দুর্দান্ত সব সেভে ইউরোপ পরাশক্তিদের রুখে দিল ইরান। দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া কেভিন ডি ব্রুইনাদের বিপক্ষে একটি পয়েন্ট আদায় করে নিল কোচ আমির ঘালেনোই শিষ্যরা।
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ড্র হয়েছে ‘গ্রুপ-জি’র ম্যাচটি। চলতি আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুদলই ড্র করেছিল। মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে বেলজিয়াম এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়ে ২-২ সমতায় শেষ করেছিল ইরান। এবার দ্বিতীয় ম্যাচেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিতে হল দলদুটির। এতে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে ইরান। বেলজিয়াম রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। দুই দলেরই সংগ্রহ এখন ২ পয়েন্ট।
ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েও গোলের দেখা পায়নি বেলজিয়াম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেলজিয়ামের দখলে বল ছিল ৭০ শতাংশ সময়, সম্পন্ন করেছে ৬২২টি পাস। তবে ২৩টি শট নিয়েও গোল করতে ব্যর্থ হয় তারা। বেলজিয়ামের আক্রমণের বিপরীতে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। দুর্দান্ত সাতটি সেভ করেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়াম আক্রমণের ঝড় তোলে। প্রথম তিন মিনিটেই তারকা মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনার নিখুঁত পাস থেকে সুযোগ পান রোমেলু লুকাকু। তবে ইরানের গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ দ্রুত এগিয়ে এসে বিপদ সামাল দেন।
রক্ষণভাগে অসাধারণ শৃঙ্খলা দেখিয়েছে ইরান। বেলজিয়ামের একাধিক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন তারা। ডি ব্রুইনা-লুকাকুদের আক্রমণের ভিড়ে উল্টো জালের দেখা পায় ইরান। ম্যাচের ২৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত পাস বাড়ান এহসান হজসাফি। সেই পাস ধরে মেহদী তারেমি চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান। ইরানি সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়লেও ভিএআর চেকের পর অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয় গোলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বেলজিয়াম। ৬৬ মিনিটে ডিফেন্ডার নাথান এনগয়ের অসতর্কতায় বল পেয়ে যান মেহদী তারেমি। গোলের দিকে এককভাবে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ফাউল করেন এনগয়, ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০ জন নিয়ে খেললেও শেষ অবধি আক্রমণ বজায় রেখেছিল তারা। তবে বেইরানভান্দে আটকে যায় দলটি।
অন্যদিকে আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ না পেলেও ইরান বারবার বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে লং থ্রো এবং সেট-পিস থেকে কানানি ও তারেমির জোরালো ভলি শট ঠেকাতে একাধিকবার দক্ষতা দেখাতে হয়েছে থিবো কোর্তোয়াকে।



