২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গড়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। কল্যাণরাষ্ট্র দান বা করুণার ওপর দাঁড়ায় না। অধিকার কল্যাণরাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি। রাষ্ট্রকে নাগরিকদের অধিকারভিত্তিক মৌলিক চাহিদা পূরণের নিশ্চয়তা দিতে হয়। খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদা সুরক্ষিত হতে হয়। গণতান্ত্রিক হতে হলে মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখতে হয়।
প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় এনজিওগুলোর বিষয় অনেকটাই অনুপস্থিত। অর্থনীতিতে সক্রিয় এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান অনেক। ৭২৪টি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করে। তাদের ৩ কোটি ২০ লাখ ঋণগ্রহীতা রয়েছে।
রাষ্ট্রের কল্যাণের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ঋণ, সেবা ও ত্রাণ বিতরণের প্রচলিত গণ্ডি থেকে বের করে আনা দরকার। এ সংস্থাগুলো সম্পদ ও ব্যাপ্তি বাজারব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে সক্ষম। তাদের খাদ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, কৃষকের আয় নিশ্চিত করা ও সাশ্রয়ী আবাসন সরবরাহের মতো ব্যবস্থায় নিয়োজিত করা সম্ভব।
অবশ্যই নাগরিক সমাজের স্বাধীন কণ্ঠ, জনমত তৈরি, অ্যাডভোকেসি, সংগঠিতকরণ ও জবাবদিহি তৈরির ক্ষেত্র অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে নাগরিক সমাজের এ গুরুত্বপূর্ণ কাজ আরও বেশি করে জারি রাখা জরুরি।



