এই নির্বাচনের দুটি মাত্রা রয়েছে। প্রথমত, এটি জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। নাগরিকেরা ভোট দিয়ে তাঁদের পছন্দের রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনার সুযোগ পাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, এটি একধরনের গণ-অনুমোদন। রাষ্ট্রকাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কারে যে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে, জনগণ তা সমর্থন করছে কি না, সেটিও এই প্রক্রিয়ায় যাচাই হচ্ছে।
নির্বাচনের দিনে কিছু বিচ্ছিন্ন অনিয়মের খবর এসেছে। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে কখনো শতভাগ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ভোট হয়েছে বলা যাবে না। এটি আশা করাটাও বাস্তবসম্মত নয়। প্রশ্ন হলো, অনিয়মের মাত্রা কি এই পর্যায়ের যে এটা সামগ্রিক ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে? এখন পর্যন্ত যে প্রবণতা দৃশ্যমান, তাতে বড় কোনো কারচুপির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। এটি একটি ইতিবাচক দিক।
একই সঙ্গে ভোটার উপস্থিতির প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন শুধু অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলেও চলবে না, সেটি অংশগ্রহণমূলকও হতে হবে। নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। একটি বড় দল যেহেতু ভোটের মাঠে নেই, ফলে ভোট গ্রহণের হারে এর প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক। তবে এখন পর্যন্ত প্রাথমিক হিসাব বলছে, ভোটার উপস্থিতি হয়তো ৬০ শতাংশের কাছাকাছি বা কিছুটা বেশি হতে পারে। একটি বড় রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ না থাকা সত্ত্বেও যদি এই হার অর্জিত হয়, তবে তা পুরোপুরি নিরাশাজনক নয়। অবশ্যই আরও বেশি অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করত। তবু এটিকে একটি সম্ভাবনাময় সূচনা বলা যায়।



