ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে সরকারি খাল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে।
রাজধানীর মিরপুরের ইসিবি চত্বর সংলগ্ন সরকারি খালের জমি ও স্থানীয়দের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বিশাল ১৭ তলা ভবন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের আড়ালে এমন অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা এবং জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এবং চট্টগ্রামে পৃথক মামলাও রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের জমানায় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সান্নিধ্যে থেকে নানা সুবিধা বাগিয়ে নেন শামীম আহমেদ। বিশেষ করে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।
সে সময় বিদ্যুৎ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ তৈরি হয় তাঁর বিরুদ্ধে। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা নিজের ক্ষমতার প্রভাবে সব ধরনের আইনি জবাবদিহি থেকে এতদিন অধরা ছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তাঁর প্রভাব বিস্তারের কৌশল থামেনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর গঠিত ইউনুস সরকারের মেয়াদকালেও মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ বাগিয়ে নেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজের রাজনৈতিক রূপ পাল্টে নিজেকে বিএনপি সমর্থক হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন। হঠাৎ করেই রাজনৈতিক খোলস বদলে প্রশাসনিক পদে বহাল থাকার এমন চাতুর্য নিয়ে খোদ বিদ্যুৎ খাত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এই ক্ষমতাধর কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহার, খাল দখল এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিতে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার, খাসজমি দখল এবং বারবার রাজনৈতিক আশ্রয় পরিবর্তন করে বহাল তবিয়তে থাকার বিষয়টি এখন দুর্নীতি দমন কমিশন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নজরদারির দাবি রাখে। একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর জালিয়াতি ও দখলের অপরাধ বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক সুশাসনের চরম অবনতিকেই নির্দেশ করে।



