ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর আগের চেয়ে দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ফলে সেখান থেকে আসা মৌসুমি বায়ু এখন অনেক বেশি জলীয় বাষ্প বয়ে আনছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয়, বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে যে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, তা–ই আসলে এই অতিবৃষ্টির কারণ। যত প্রচণ্ড গরম পড়বে, বাতাস তত বেশি আর্দ্রতা জমাবে ও পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির ধরন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।
বিশ্বকে উত্তপ্ত করার জন্য দায়ী গ্যাসগুলোর মাত্র ১ শতাংশের কম নির্গত হয় আমাদের এসব অঞ্চল থেকে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। বর্ষাকালের ধরনটাই এখন পাল্টে গেছে। এখন দীর্ঘ সময় কোনো বৃষ্টি থাকে না, আবার যখন নামে, তখন অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টি হয় যে তা সামলানো কঠিন।
শিল্পায়নের পর থেকে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এখন পর্যন্ত মাত্র ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এই সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশে বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি আমরা দেখছি, তা আসলে এক অশনিসংকেত। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর হার না কমলে এই শতাব্দীর শেষে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ৩ ডিগ্রিতে পৌঁছে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করছেন, তাপমাত্রা যত বাড়বে, প্রকৃতির এই ধ্বংসাত্মক রূপ ততই ভয়াবহ হয়ে উঠবে।



