ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি ফ্যান জোনে হামলার ঘটনায় ছুটিতে থাকা এক সুইডিশ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। গত ৩০ জুন রাতে শহরের আইসল্যান্ডস ব্রিগে এলাকায় বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার সময় হামলার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত পুলিশ সদস্যের নাম ক্রিশ্চিয়ান জেডিগ (৩২)। তিনি সুইডিশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তবে ঘটনার সময় ব্যক্তিগত ছুটিতে কোপেনহেগেনে অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সুইডিশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটির সভাপতি ক্যাথারিনা ফন সিডো এক বিবৃতিতে বলেন, ছুটিতে থাকা অবস্থায় এক সহকর্মীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি নিহতের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ঘটনার পর ক্রিশ্চিয়ানের কর্মস্থলে সহকর্মীদের অংশগ্রহণে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। ইস্টার্ন পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অসা বের্গম্যান বলেন, শোকাহত সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও শোক প্রকাশ করে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সুইডিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ক্রিশ্চিয়ান জেডিগ স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তার বোন এই শোককে ‘কখনো শেষ না হওয়ার বেদনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ডেনিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার সময় বড় পর্দায় নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচ সম্প্রচার করা হচ্ছিল। গোল উদযাপনকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে এক ব্যক্তি ওই সুইডিশ সমর্থককে ঘুষি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলার পর পুলিশ সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করলে গত ৩ জুলাই ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তাকে ২৬ দিনের রিমান্ডে পাঠালেও তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনার পর কোপেনহেগেনের আইসল্যান্ডস ব্রিগে বিশ্বকাপ ফ্যান জোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই স্থানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি সহিংস ঘটনার পর কোপেনহেগেন সিটির শিশু ও যুববিষয়ক মেয়র ইয়াকব নেসাগার জনসমাগমে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ম্যাচ প্রদর্শন বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সংস্কৃতিবিষয়ক মেয়র ক্রিস্টোফার রোল এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, সমস্যা আয়োজনে নয়, বরং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে। তার মতে, নিরাপত্তা আরও জোরদার করে ফ্যান জোন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া উচিত।
এদিকে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ফোদবোল্ডসফেস্টেন জানিয়েছে, আগামী ম্যাচগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, প্রবেশপথে কঠোর তল্লাশি, বডি ক্যামেরার ব্যবহার এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দর্শকরা নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারেন।


