কর্মজীবী নারী ও ছাত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক ঋতুকালীন ছুটি বা ‘মেনস্ট্রুয়াল লিভ’ চালুর দাবি জানিয়ে করা একটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত মন্তব্য করেছে, এই ধরনের আইন বাধ্যতামূলক করা হলে কেউ নারীদের চাকরি দেবে না।
বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আবেদনটি খারিজ করে দেন। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার আইন চালু হলে অনেক নিয়োগকর্তা নারী কর্মী নিয়োগ দিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন।
তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংবেদনশীলতা তৈরির উদ্যোগ ভিন্ন বিষয়, তবে এটিকে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এতে কর্মজীবী নারীদের মধ্যে এমন মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি জন্মাতে পারে যে তারা পুরুষদের তুলনায় পিছিয়ে আছেন।
বেঞ্চের অপর বিচারক জয়মাল্য বাগচীও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংবিধান নারীদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দিলেও চাকরিবাজারের বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। তার মতে, কোনো মানবসম্পদ যত কম আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত হবে, বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতাও তত কমে যাবে।
এই আবেদনটি করেছিলেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি। তিনি সুপ্রিম কোর্টের কাছে সব রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়ে ছাত্রী ও কর্মজীবী নারীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটির বিধিমালা প্রণয়ন বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি এই উদ্যোগকে ‘ভীতি তৈরির প্রয়াস’ বলে মন্তব্য করেন।
শুনানির সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আর শামশাদ জানান, ২০১৩ সালে কেরালা সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীদের জন্য ঋতুকালীন ছুটি চালু করেছিল। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এটিকে লিঙ্গ-সমতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও স্বেচ্ছাভিত্তিতে এমন সুবিধা দিচ্ছে।
তবে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, এসব উদ্যোগ স্বেচ্ছাসেবী বা ঐচ্ছিক ছিল। কিন্তু এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি।




