মাযহাব অস্বীকার করে নিজের সীমিত জ্ঞান ও খেয়াল-খুশিমতো ইসলামী বিধান ব্যাখ্যা করার প্রবণতা থেকে মুসলমানদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব কেবলা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালী টিবি গেট এলাকার গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে তিন দিনব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ছারছীনার পীর বলেন, মাযহাব অস্বীকার করা দ্বীনের গভীর ও সুসংহত জ্ঞান অর্জনের পথকে উপেক্ষা করার শামিল। কুরআন-সুন্নাহর বিধান বুঝতে হলে যোগ্য আলেম, ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমামদের ব্যাখ্যা ও গবেষণার ওপর নির্ভর করতে হবে।
তিনি বলেন, ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম মালেক (রহ.), ইমাম শাফেয়ি (রহ.) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) কুরআন-সুন্নাহর দলিল, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং গভীর ফিকহি গবেষণার ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহকে দ্বীনি বিধান বোঝার সুসংহত পথ দেখিয়েছেন। তাই মাযহাব অস্বীকার করা কিংবা মাযহাব অনুসরণকারী মুসলমানদের হেয় করা গ্রহণযোগ্য নয়।
মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন আরও বলেন, কুরআন-হাদিসের নাম নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা দেওয়া দ্বীনের খেদমত নয়। ফিকহ, আরবি ভাষা, হাদিসের বিভিন্ন স্তর, নাসিখ-মানসুখ, আম-খাস, মুতলাক-মুকাইয়্যাদসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া শরিয়তের বিধান নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ভিডিও বা অনুবাদ দেখে নিজেকে ফকিহ মনে করার প্রবণতা দ্বীনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মাযহাবের ইজতিহাদি মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে উম্মাহর মধ্যে বিভেদ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাযহাবের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে মানুষকে আলেমদের অনুসরণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রবণতাও প্রতিহত করতে হবে। দ্বীনের বিষয়ে আবেগের পরিবর্তে বিজ্ঞ আলেমদের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
মাহফিলে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর হাফেজ শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মো. মামুনুল হক, বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. হেমায়েত বিন তৈয়্যেব ও মাওলানা মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ছারছীনার পীর ছাহেব।