রাজধানীতে ২০টি কুকুর হত্যার ঘটনায় তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ আবারও আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক ওই রায়কে প্রাণিপ্রেমিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। রায়টি যেন কার্যকর হয় সেই দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত ৮ মার্চ ঢাকার একটি আদালত ২০টি কুকুর হত্যার দায়ে তিনজনকে আড়াই বছর করে কারাদণ্ডসহ জরিমানা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালের জানুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা লোহার রড, প্লায়ার্স এবং বিষাক্ত ইনজেকশন ব্যবহার করে কুকুরগুলো হত্যা করে। পরে মৃত কুকুরগুলো বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলাটি করা হয় প্রাণি কল্যাণ আইন ২০১৯অনুযায়ী।
আদালত আইনের একাধিক ধারায় সাজা দিলেও তা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাদের কার্যত দুই বছর কারাভোগ করতে হবে।
প্রাণি অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রাণি নির্যাতনের ঘটনায় এটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য কারাদণ্ডের নজির।
তবে কুকুর হত্যায় এবারই কি প্রথম কাউকে কাউকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো?
রেকর্ড বলছে বাংলাদেশে কুকুর হত্যার ঘটনায় আগেও শাস্তি হয়েছে, তবে তা খুব বেশি নয়। প্রথম শাস্তির ঘটনাটিও বেশিদিন আগের নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তারা বলেছেন, ২০১৮ সালে ঢাকায় এক ব্যক্তিকে দুটি কুকুর ও ১৪টি কুকুরছানাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেসময় এটিকে প্রাণি হত্যার ঘটনায় প্রথম দণ্ডিত হওয়ার নজিরগুলোর একটি হিসেবে দেখা হয়েছিল।
এর আগে অনেক ক্ষেত্রেই এমন ঘটনায় মামলা বা শাস্তি খুব কমই হতো। সব ঘটনায় কারাদণ্ড হয় না। অনেক সময় আদালত জরিমানা বা বিকল্প শাস্তিও দিয়েছেন। যেমন: ২০২৫ সালে বরিশালে একটি কুকুর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ২০২৪ সালে ফেনীতে কুকুর হত্যা মামলায় আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রবেশনে রেখে তিন মাস কুকুরদের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেন।
আইনজীবীরা বলছেন, প্রাণি কল্যাণ আইন অনুযায়ী কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে মামলার প্রমাণ বা পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প শাস্তি দেওয়া হয়। তবে বিশ্বের অনেক দেশে প্রাণী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এমনও নজির আছে যে ডগ ফাইটিং চক্র পরিচালনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ৪৭৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আবার অস্ট্রেলিয়ায় পোষা কুকুর নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের কিছু দেশেও কুকুর হত্যার ঘটনায় কারাদণ্ডের উদাহরণ রয়েছে।
প্রাণি অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বাংলাদেশে প্রাণি কল্যাণ আইন কার্যকর হওয়ার পর সচেতনতা কিছুটা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রাণি নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে তাদের মতে, আইন প্রয়োগ আরও জোরদার না হলে এ ধরনের নিষ্ঠুরতা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে।





