পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালকোট শহরের নিউ বাস টার্মিনাল এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিলে গুলিতে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

নিহতদের মধ্যে বেলুচ সাধুনাতি জেলার জাহিদ মুঘল, জাফর মুঘল, আরসালান আকবর ও ওয়াজিদ হায়াতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা অঞ্চলটির মানবিক পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনার দাবি জানান। বিক্ষোভে নারী, শিশু ও স্থানীয় নেতাসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। তারা বেসামরিক এলাকাগুলো থেকে পাকিস্তানি সামরিক উপস্থিতি কমানোর আহ্বান জানান এবং নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগের আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন।
বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘমেয়াদি ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তাদের দাবি, এ কারণে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ কার্যত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) নির্দিষ্ট অংশ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের বাইরে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত ২০২৫ সালের এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের ৫৭ শতাংশের বেশি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে পারছে না।





