
ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি – ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই নজিরবিহীন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বন্দিদের অংশগ্রহণের হার ছিল অত্যন্ত নগণ্য। সারা দেশে প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন মাত্র ৪ হাজার ৫৩৮ জন। এটি মোট বন্দির প্রায় সাত শতাংশ। ফলে কারাগারে ভোটের সুযোগ থাকলেও ৯৩ শতাংশ বন্দি ভোটদান প্রক্রিয়া থেকে বিরত ছিলেন। কারাগারে অবস্থানরত নিবন্ধিত বন্দিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে এই বিশেষ ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
শনিবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৪০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৫৩৮ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ৫২১ জন, ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ জন এবং শনিবার ৪৭১ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। শনিবার ভোটগ্রহণের নির্ধারিত শেষ দিন থাকলেও নিবন্ধিত বাকি ১ হাজার ৪০২ জন বন্দিকে সুযোগ দিতে রবিবার পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে ৬ হাজার ৩১৩ জন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিলেন। যাচাই বাছাই শেষে ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল করে বৈধ নিবন্ধন দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৪০ জনে। বন্দিদের ভোটদানে অনাগ্রহের দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন তিনি। প্রথমত, অনেকের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড না থাকায় তারা আবেদন করতে পারেননি।
দ্বিতীয়ত, অনেকে ভেবেছিলেন ভোটের আগে জামিন পেয়ে যাবেন। কারাগারে নিবন্ধন করলে বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া যাবে না, এমন আশঙ্কায় অনেকে নিবন্ধন করেননি। ভিআইপি বন্দিদের ভোটদান প্রসঙ্গে জান্নাত উল ফরহাদ জানান, ভোট দিতে ৩৯ জন ভিআইপি বন্দি নিবন্ধন করেছিলেন। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুসহ ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব, ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রয়েছেন। তারা নিবন্ধন করলেও শেষ পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক বা জুনাইদ আহমেদ পলকের ভোট দেওয়ার খবরটি সঠিক নয় বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তারা নিবন্ধনও করেননি। অন্যদিকে বন্দিদের একটি বড় অংশ বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হওয়ায় তারা ভোটে অংশ নেননি বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। নির্বাচন কমিশনের অ্যাপের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বন্দিরা তিন সপ্তাহ ধরে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, যা গত ৫ জানুয়ারি শেষ হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এস এম/ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





