এই অস্বচ্ছতার মূল্য শুধু প্রার্থীরা একা দিচ্ছেন না; তাঁদের পরিবারও দিচ্ছে। কেউ বিদেশে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ ছেড়ে অপেক্ষা করেছেন, কেউ অভাবের সংসারে সচ্ছলতা আনার স্বপ্ন দেখেছেন। কারণ না জানিয়ে বাদ দেওয়ায় তাঁরা সামাজিক সন্দেহ ও অপমানেরও মুখোমুখি হচ্ছেন। নিয়োগ না পাওয়ার সঙ্গে অঘোষিত অপরাধীর তকমা যুক্ত হওয়া অন্যায্য। রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে নাগরিকের মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে হবে।
সম্প্রতি একাধিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন তথা তথ্য যাচাই–বাছাইয়ে প্রার্থীদের বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে প্রার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে দাবি জানিয়েছেন। সরকারও বিষয়টি সুবিবেচনায় নিয়ে এ সমস্যার সমাধান করেছে। আমরা আশা করব, ৪৫তম বিসিএসের ক্ষেত্রে বিষয়টি সরকার সুবিবেচনায় নেবে।
বাদ পড়া প্রার্থীরা জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অন্যায় হয়ে থাকলে পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন প্রয়োজন সময়সীমা নির্ধারণ করে সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন। আবেদনগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে নিয়োগে বাধা হওয়ার মতো যাচাইকৃত কারণ নেই, তাঁদের দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে। অন্যদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ লিখিতভাবে জানিয়ে কার্যকর পুনর্বিবেচনার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

