মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছে যুক্তরাজ্য। কাতারের আকাশসীমার দিকে এগিয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি টাইফুন যুদ্ধবিমান।
সংবাদমাধ্যম মিরোর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে অঞ্চলজুড়ে প্রতিরক্ষামূলক টহল দিচ্ছিল ব্রিটিশ সামরিক বিমানগুলো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, ২০২৬ সালের ১ মার্চ কাতারে অবস্থানরত যৌথ যুক্তরাজ্য–কাতার টাইফুন স্কোয়াড্রনের একটি আরএএফ টাইফুন যুদ্ধবিমান কাতারের আকাশসীমার দিকে আসা একটি ইরানি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করে।
তিনি বলেন, বিমানটি প্রতিরক্ষামূলক টহলে ছিল এবং আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। এর ফলে কাতারের আকাশসীমা এবং ওই অঞ্চলে ব্রিটিশ স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
কাতারের প্রতিরক্ষায় এই যৌথ স্কোয়াড্রনের এটিই প্রথম সফল অপারেশনাল বাধা (ইন্টারসেপশন) বলে জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস এ ঘটনায় আরএএফ সদস্যদের প্রশংসা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, আমাদের আরএএফ সদস্যদের পেশাদারিত্ব সত্যিই প্রশংসনীয়। ভালো কাজ এভাবেই চালিয়ে যান।
এর আগে ইরাকে অবস্থানরত ব্রিটিশ একটি ড্রোন প্রতিরোধ ইউনিট যুক্তরাজ্যের সেনাসদস্যদের অবস্থান করা একটি জোট ঘাঁটির দিকে আসা আরেকটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করে।
এদিকে ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে আরএএফের টাইফুন ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সাইপ্রাস থেকেও প্রতিরক্ষামূলক মিশন পরিচালনা করছে। ভূমধ্যসাগরের ওই দ্বীপের দিকে দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলেও সেগুলো সরাসরি ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে বলে মনে করছে না লন্ডন।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত কয়েক হাজার ব্রিটিশ নাগরিককে সহায়তা দিতে সরকার বড় ধরনের একটি অভিযানও শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।



