কর্ম, সৃজন ও মননে অনবদ্য ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া | চ্যানেল আই অনলাইন

কর্ম, সৃজন ও মননে অনবদ্য ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া | চ্যানেল আই অনলাইন

প্রশাসনিক দক্ষতা, সৃজনশীল মনন ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের এক বিরল সংমিশ্রণ ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া। বর্তমানে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এ পদে যোগদানের আগে তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন। একজন দক্ষ আমলা হওয়ার পাশাপাশি তিনি গবেষক, কবি, গীতিকার ও শিক্ষাবিদ হিসেবেও সমানভাবে পরিচিত।

বহুমুখী নেতৃত্ব ও বর্তমান দায়িত্ব

বিদেশগামী অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে নীতিনির্ধারণী ভূমিকা রাখছেন তিনি। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন—

চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL) পরিচালনা পর্ষদ

সভাপতি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড পরিচালনা পরিষদ

চেয়ারম্যান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ

মেধার স্বাক্ষর ও শিক্ষাজীবন

ড. ভূঁইয়ার সাফল্যের ভিত্তি তার উজ্জ্বল শিক্ষা জীবন। কুমিল্লা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে যথাক্রমে ১৫ ও ১৭তম স্থান অর্জন করেন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিষয়ে এবং ব্রিটিশ ইতিহাসের ওপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ইংরেজি রোমান্টিক কবি জন কিটস-এর কবিতায় ‘সাবলাইম’ ও ‘সাফারিং’-এর দার্শনিক ব্যঞ্জনা নিয়ে তার গবেষণা বিশেষভাবে প্রশংসিত।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন: অধ্যাপনা থেকে প্রশাসন ও কূটনীতি

অধ্যাপনা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন ড. ভূঁইয়া। বরুড়া শহীদ স্মৃতি কলেজ, শেখ বোরহানুদ্দিন কলেজ, অতিশ দীপংকর ইউনিভার্সিটি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-এ শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৮৪ সালে (৫ম ব্যাচ) বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে শুরু হয় তার প্রশাসনিক যাত্রা।

মাঠ প্রশাসন: মৌলভীবাজারে টিএনও এবং মাগুরা ও মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাগুরাকে শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় এনে ইউনিসেফ-এর প্রশংসা ও জাতীয় সম্মাননা অর্জন করেন।

কূটনৈতিক দায়িত্ব: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাত বছর কর্মরত থেকে জর্ডানের আম্মানে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব, কার্যালয় প্রধান ও চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটে কনসাল, হেড অব চ্যান্সেরি ও ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ: রাজউকের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক, মেহেরপুর জেলা পরিষদের সিইও এবং বিআরটিসির পরিচালক হিসেবেও তিনি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্প এবং বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে ‘সোশ্যাল সেফটি নেট’ টিমের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।

বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কাণ্ডারি

সিনিয়র সচিব হিসেবে বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

জাপানের সঙ্গে কৌশলগত অগ্রগতি: ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে বিপুল শ্রমশক্তির চাহিদা পূরণে দেশটির ভাইস-মিনিস্টার ওয়াতানাবে ইয়োইচির সঙ্গে বৈঠক করেন। তার উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে।

সৌদি আরবে দক্ষতা যাচাই: সৌদি আরবে দক্ষ কর্মী পাঠাতে তাকামল হোল্ডিংয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৮৮টি পেশায় দক্ষতা যাচাই কার্যক্রম চালু রয়েছে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা সহজীকরণ: গালফ হেলথ কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠকে প্রবাসীদের মেডিকেল টেস্ট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ঢাকার বাইরে আঞ্চলিক তদারকি অফিস স্থাপনের প্রস্তাব দেন।

সৃজনশীলতার বিস্তার

প্রশাসনের পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনেও সমান সক্রিয় ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৪টি। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে তার দুই শতাধিক প্রবন্ধ, কবিতা ও গল্প প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভির নিবন্ধিত গীতিকার; প্রায় দুই শতাধিক গানের বাণী রচনা করেছেন।

সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয়। বিসিএস ’৮৪ ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ লিমেরিক সোসাইটি, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি, ঊষসী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা ও লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

১৯৫৮ সালে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার জোড়পুকুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে দুই প্রকৌশলী সন্তানের জনক। তার সহধর্মিণী রাশিদা ভূঁইয়া একজন স্বনামধন্য সমাজকর্মী; ইনার হুইল ক্লাব অব ঢাকা ওয়েস্ট-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে আন্তর্জাতিক ‘অলিভার গোল্ডিং অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।

কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে মেধা, সততা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে। প্রশাসনিক কঠোরতা আর সাহিত্যের কোমলতার এই সেতুবন্ধন তাকে সমসাময়িক প্রজন্মের কাছে এক অনন্য আদর্শে পরিণত করেছে।

Scroll to Top