কক্সবাজার সদরে এক নারীর মাথা ও এক হাতের কব্জি কাঁটা অর্ধগলিত লাশ কম্বল মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গভীর রাত পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মিদের সহায়তায় ঘটনাস্থলের আশপাশের সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও নিহতের মাথা ও হাতের কব্জির পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে ঘাতক স্বামী পলাতক রয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকার একটি ভাড়াবাড়ির পাশের পুকুরের কিনারা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের বরাতে কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন বলেন, শনিবার বিকেলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়া উৎকট দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কিনারায় কম্বল মোড়ানো অবস্থায় একটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
পরে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোড়ানো কম্বলটি খুলে মরদেহটি উদ্ধার করেছে। অন্তত ৪/৫ দিন আগে এই নারীর শরীর থেকে মাথা ও এক হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে নানা তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্ত ছাড়া মন্তব্য করা সঠিক হবে না। খুনের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার রাত ১০ টা থেকে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী নিহতের কেটে নেয়া মাথা ও হাতের কব্জির খোঁজে ঘটনাস্থলের আশপাশে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের টিম লিডার খোকন কান্তি বিশ্বাস।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে কয়েকটি ডোবা, ময়লার স্তুপ ও জঙ্গলপূর্ণ স্থানে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। কিন্তু দূর্বৃক্ত কর্তৃক কেটে নেয়া মাথা ও হাতের কব্জির খোঁজ মিলেনি।
শুরুতে নিহত নারীর পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নারী সাদিয়া আক্তার মুন্নি (২৮)। তিনি মহেশখালী উপজেলার জাগিরাঘোনা এলাকার আমানউল্লাহ ও হাসিনা বেগমের মেয়ে। তার স্বামীর নাম সাইফুর রহমান।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাদিয়া আক্তার মুন্নি ও তার স্বামী সাইফুল রহমান দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকার আয়ুব নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে বাসা ভাড়া নেন। তবে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাদের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না। সাইফুল নিজেকে গাড়িচালক হিসেবে পরিচয় দিতেন।
এদিকে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, সাইফুর রহমানের প্রথম স্ত্রী সাদিয়া আক্তার মুন্নি। তাদের সংসারে ৪ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান রয়েছে। গত ২/৩ বছর আগে সাইফুর দ্বিতীয় বিয়ে করলেও সংসার বেশী দিন ঠিকেনি। এর মধ্যে ৬ মাসে আগে প্রথম স্ত্রীর অমতে সে তৃতীয় বিয়ে করে।
এই তৃতীয় বিয়ে নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় এবং শ্বশুর বাড়ীর সাথেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুইজনে কক্সবাজার চলে আসেন।
প্রথমে তারা শহরের টেকপাড়ায় বাসা ভাড়া নেয়। পরে গত রমজানের মাঝামাঝি সময়ে ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানারঘোনায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ সাদিয়া আক্তার মুন্নির সাথে পরিবারের লোকজনের মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল।




