
কক্সবাজার, ২৬ ফেব্রুয়ারি – কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় এলপিজি গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের সবার শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শরীরের ২০ শতাংশ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দগ্ধদের শ্বাসতন্ত্রে আঘাত লাগার কারণে তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রশাসন আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চমেকে ভর্তি দগ্ধ রোগীরা হলেন আবদুর রহিম, সিরাজ, আবু তাহের, আবুল কাশেম, সাকিব ও মুতাব্বের। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, গ্যাস লোড ও আনলোড করার সময় যান্ত্রিক বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
এছাড়া ওই গ্যাস স্টেশনটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা বা ফায়ার সার্টিফিকেট ছিল না বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. এ মান্নান। কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা পুলিশ ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং পাম্প মালিকের নথিপত্র তলব করেছে। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে কলাতলীর প্রবেশমুখে কক্সবাজার এলপিজি স্টেশনে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্ফোরণে পুরো স্টেশনটি পুড়ে কালো হয়ে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী গাছপালা ও দুটি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আসবাবপত্র ও মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
এসএএস/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





