এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
আজ ঐতিহাসিক যশোরমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে প্রথম পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় প্রাচীনতম জেলা যশোর। মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর অগ্রযাত্রায় পলায়নপর পাক সেনারা দুপুরের পরপরই খালি করে যায় যশোর সেনানিবাস। আর সেইদিনই যশোরে প্রথম উড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় নিশান। রক্ত-সূর্যখচিত গাঢ় সবুজ পতাকা।
আজ ৬ ডিসেম্বর শনিবার ঐতিহাসিক যশোরমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বিকেলের আগেই পাক সেনারা পুরোপুরি খালি করে যায় যশোর সেনানিবাস। এরপর বিকেলে মিত্রবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বারাতের নেতৃত্বে সম্মিলিত বাহিনী সেনানিবাসে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই সময় সেনানিবাসে মিলেছিল তড়িঘড়ি ফেলে যাওয়া পাক সেনাদের খাবার প্লেটে ভাত-তরকারি, যা তাদের আকস্মিক পলায়নের সাক্ষ্য দেয়।
অবস্থার চাপে পর্যুদস্ত হানাদার বাহিনী ৫ ডিসেম্বর থেকেই পালানো শুরু করে। ছিন্নভিন্ন হয়ে তারা খুলনার গিলাতলা সেনানিবাসের দিকে পিছু হটতে থাকে। পথে রাজারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুমুল লড়াই হয়। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত যশোরের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে পাক সেনাদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। ভারতীয় মিত্রবাহিনীও সীমান্ত থেকে যশোর সেনানিবাসে বিমান হামলা চালায় এবং মর্টার নিক্ষেপ করে।
স্বাধীনতার পূর্বমুহূর্তে যশোর ছিল প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্র। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ যশোর কালেক্টরেটের সামনে স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভে গুলি চালালে যশোরের প্রথম নারী শহীদ হন চারুবালা কর । ২৬ মার্চ রাতে যশোরের জনপ্রিয় রাজনীতিক ও জাতীয় সংসদ সদস্য মশিয়ূর রহমানকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে সেনানিবাসে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী।
৩০ মার্চ যশোর সেনানিবাসে ক্যাপ্টেন হাফিজের নেতৃত্বে বাঙালি সৈন্যরা বিদ্রোহ করেন। ৩১ মার্চ নড়াইল থেকে আসা হাজারও মানুষের সশস্ত্র মিছিল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার আক্রমণ করে মুক্ত করে রাজনৈতিক বন্দীদের। জুলাইয়ের পর প্রশিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে যশোর অঞ্চলে পাকবাহিনীর অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
যশোর ছিল মুক্তিযুদ্ধের ৮ নম্বর রণাঙ্গন। এ অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন মেজর মঞ্জু, আর পাক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করত ১০৭ নম্বর ব্রিগেড, যার নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার হায়াত খান।




