একের পর এক আক্রমণ, অফসাইডে গোল বাতিল, পোস্টে লেগে ফিরে যাওয়া। প্রথমার্ধে যেন ভাগ্যটা সহায় ছিল না ফ্রান্সের। তবে কাইলিয়ান এমবাপের গতি কি আটকানো যায়। জোড়া গোল করলেন সুইডেনের বিপক্ষে, গোল পেয়েছন ব্র্যাডলি বারকোলাও। ফলাফল ৩-০ গোলে বড় জয়। সুইডিশদের বিদায় করে শেষ ষোলোতে গত আসরের রানার্সআপরা। পরবর্তী রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।
নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ফ্রান্স। ম্যাচের ২০ মিনিটে জালের দেখাও পেয়েছিল দলটি। তবে এমবাপের গোলটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে।
৩২ মিনিটে গোল পেতে পারতেন এমবাপে। তবে ভাগ্য পক্ষে ছিল না। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে পাওয়া বল শট নেন গোলমুখে। তবে শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ৩৬ মিনিটে আরও একবার ভাগ্য সহায় হয়নি। মাইকেল ওলিসের নেয়া বাইসাইকেল কিক গিয়ে লাগে পোস্টে, ফিরতি বলে উসমানে ডেম্বেলের নেওয়া শটও অল্পের জন্য গোলের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
একের এক গোলবঞ্চিত হওয়ার পর ৪৫ মিনিটে আসে কাঙ্খিত সেই মুহূর্ত। ডেম্বেলের কাছে থেকে বল পেয়েছে জোরাল শটে বল জালে জড়ান ফ্রান্স অধিনায়ক। তাতে ছাড়িয়ে যান মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। চলতি বিশ্বকাপে তার পঞ্চম ও সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ১৭তম গোল, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১৯ গোল নিয়ে শীর্ষে লিওনেল মেসি।
পাশাপাশি আরও একটি রেকর্ড করেন। বিশ্বকাপের নকআউটে নবম গোলটি সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক এখন এমবাপে। এত দিন ৮টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে রেকর্ডটা ছিল লিওনিদাস ডে সিলভা ও রোনাল্ডো নাজারিওর সঙ্গে।
বিরতি থেকে ফিরে ৫৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় ফ্রান্স। ওলিসের পাসে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোলটি করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এটি চলতি বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় গোল।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপে। তার জোড়া গোলে ফ্রান্স এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে। এই গোলে চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় এমবাপে স্পর্শ করেছেন লিওনেল মেসিকে। দুজনেরই গোল এখন ৬। আর সব মিলিয়ে এমবাপের গোল এখন ১৮। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলে মেসির চেয়ে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে আছেন ফরাসি তারকা। পরে ম্যাচের ৮৫ মিনিটে এমবাপে তুলে নেন কোচ দিদিয়ের দেশম।
এমবাপে উঠে যাওয়ার পরও একাধিক সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। তবে ব্যবধান বাড়াতে না পারায় ৩-০ গোলে জয় নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কাটে গতআসরের রানার্সআপরা।



