ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ৯৪ শতাংশ কমেছে। তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের এই জলপথটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে লয়েড’স লিস্টসহ প্রধান বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১৩৮টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু গত কয়েক দিনে তা ১০টির নিচে নেমে এসেছে।
আল জাজিরার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার জাহাজ পার হওয়ার অপেক্ষায় হরমুজ প্রণালির আশপাশে আটকা পড়ে আছে।
ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে প্রায় ৩ হাজার ২০০ জাহাজ আটকা পড়ায় প্রায় ২০ হাজার নাবিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
তাসনিম নিউজের তথ্যমতে, মার্চের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৮১টি জাহাজ বা ট্যাংকার হরমুজ পার হতে পেরেছে, যার মধ্যে ১২৫টি ইরান বা তার মিত্রদের মালিকানাধীন। ইরান তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরাককে এই বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত রেখেছে। তা ছাড়া চীন, ভারত, পাকিস্তান ও তুরস্ক ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে তাদের জাহাজ পার করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, গত ১ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে অন্তত ২৪টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এতে ৮ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর কয়েক দিন পর ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। তারা জানায়, হামলাকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম এরই মধ্যে ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। এটা বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপরেও চাপ তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানকে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে রোববার ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানের প্রতি সুনির্দিষ্ট এক নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন। পোস্টে তিনি লেখেন ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’ (তেহরানের সময় বুধবার, ৮ এপ্রিল মধ্যরাত)।
একই এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, আমার দেওয়া আলটিমেটামের মধ্যে ইরান ‘কিছু না করলে’ তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু অক্ষত থাকবে না।
ট্রাম্পের এ আলটিমেটাম নিয়ে রাশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সূত্র: প্রেস টিভি


