যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামে ইকরামুল কবির (২৬) নামের এক যুবককে অপহরণ করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।
নিখোঁজ যুবকের পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এখন সন্তানের খোঁজে অসহায় বাবা বিভিন্ন দুয়ারে ঘুরছেন।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, শার্শা আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কৃষক মো. আব্দুর রশিদ। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার একমাত্র ছেলে ইকরামুল কবিরকে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় আসামি মুন্নি আক্তার প্রেমের প্রস্তাব ও বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে আসছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, ভিকটিমের চেয়ে প্রায় ১০ বছরের বড় ওই নারী এবং তার সহযোগীরা ইকরামুলকে “অসামাজিক কর্মকাণ্ডে” জড়াতে চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক কাজি অফিসে নিয়ে বিয়ে করানো হয়। মুন্নি আক্তার অতীতেও একাধিক যুবককে একইভাবে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পরে ডিভোর্স দিয়েছেন।
বাদীর অভিযোগ, বিয়ের মাত্র এক মাসের মধ্যেই ইকরামুলের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ইকরামুল ও তার পরিবারের কাছে দুই বিঘা জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়।
‘ছেলেকে জীবিত পেতে চাইলে টাকা দিন’
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল ইকরামুল নিজ গ্রাম থেকে বড় বোনের বাড়ি শার্শা থানার সেতাই গ্রামে বেড়াতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রথম আসামি আব্দুল কাদের সেখানে গিয়ে ইকরামুলের সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা আপত্তি জানালেও বিভিন্ন কথা বলে ইকরামুলকে তার মোটরসাইকেলসহ বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে দ্বিতীয় আসামি মুন্নি আক্তার ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। একইসঙ্গে হুমকি দেওয়া হয়, টাকা না দিলে ইকরামুলকে জীবিত পাওয়া যাবে না।
এরপর থেকেই ইকরামুলের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী অভিযোগ করেন, ছেলের খোঁজ জানতে চাইলে আসামিরা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় আসামি ইকরামুলকে জীবিত ফেরত পেতে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে আবার ৩০ লাখ টাকাও দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া ইকরামুলের বড় বোনের কাছেও অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মোটরসাইকেল উদ্ধার, মেলেনি যুবকের সন্ধান
অপহরণের শিকার ইকরামুলের বাবা বলেন, আমরা প্রথমে শার্শা থানা ও পরে বেনাপোল বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চারদিন পর শিবনাথপুর বারোপোতা গ্রামের তৌহিদুরের বাড়ি থেকে ইকরামুলের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরিবারের দাবি, তারা ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তরে অভিযোগ দিলেও এখনও কোনও প্রতিকার পাননি। একমাত্র ছেলের খোঁজ না পেয়ে পরিবারটি পাগলপ্রায় হয়ে গেছে। ছেলের সন্ধান পেতে বিভিন্ন দপ্তরের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন তারা। মামলার তদন্ত ও নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ বিষয়ে আমি পুরোপুরি অবগত নই। তবে কোর্ট থেকে এমন কোন নির্দেশনা আসলে আমরা তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।





