দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দল ও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাকিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। যার ফলে দেশে ফিরতে পারছেন না তিনি।

অনেকদিন ধরেই এই মামলার তদন্তের দাবি তুলে আসছেন সাকিব। দুই বছর হতে চললেও এখনও তা সম্ভব হয়নি। এর মাঝে মামলা তুলে নিতে বিশ্বসেরা এই ক্রিকেটারের কাছ থেকে ১ কোটির টাকা দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি দেশের জাতীয় এক দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন তিনি।
সাকিব বলেন, হ্যাঁ, টাকার একটা প্রস্তাব আমার কাছে এসেছে। বলেছে যে এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। তবে যে বা যারা টাকাটা দাবি করছে, তাদের ধারণা নেই যে কেসটা যেহেতু করে ফেলেছে, এখন চাইলেও তারা নাম ওঠাতে পারবে না। বা তারা ওঠালেও পুলিশ যে ওঠাবে বিষয়টা তা না। আলটিমেটলি পুলিশের থেকেই এটার ক্লিয়ারেন্স আসতে হবে যে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
কারা প্রস্তাব দিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে এই অলরাউন্ডার বলেছেন, এফআইআরে বাদীপক্ষে যার নাম আছে যোগাযোগ করার জন্য, তিনি দু-একজনের মাধ্যমে যোগাযোগটা করেছেন। কাদের মাধ্যমে, আমি তাদের নাম বলতে চাচ্ছি না।
ঢাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যায় সাকিবকে ২৮ নম্বর আসামি হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মামলায় ১৫৬ জন নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ডিএমপির আদাবর থানায় মামলাটি করেন নিহত রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
এই মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাকিব বলেন, এসব টাকা দিয়ে কেন করতে হবে ভাই? টাকা দেওয়া মানে তো হচ্ছে আমার সমস্যা আছে, আমি চাচ্ছি যে আমাকে এখান থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হোক। হতে পারে তারা ভেবেছে আমার কাছে অনেক বেশি টাকা, চাইলেই হলো।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট আদাবরের রিংরোডে প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নেন গার্মেন্টসকর্মী রুবেল। এসময় আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশ, প্ররোচনা, সাহায্য, সহযোগিতা ও প্রত্যক্ষ মদদে কেউ মিছিলে গুলি ছোড়েন। এতে বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হন রুবেল। পরে তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।



