এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সংগীতে প্রাণের স্পন্দন জাগানো বাংলাদেশের নন্দিত সংগীত সংগঠন জলতরঙ্গ দশম পেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে তার একাদশ বর্ষের প্রহরে।
দশ সংখ্যাটি নেহায়েত অল্প নয়। আনন্দ-বেদনার দ্বৈরথে এক-দুই করে জলতরঙ্গ আজ পরিণত হয়েছে ‘দশের লাঠি’তে। বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির পথে জলতরঙ্গ পথ চলতে চায় মানবতা, সম্প্রীতি আর দেশাত্মবোধকে সঙ্গী করে। যা কিছু ন্যায়ের পক্ষে, যা কল্যাণকর, যা শুভ জলতরঙ্গ তা-ই আলিঙ্গন করতে চায়।
প্রতিষ্ঠার সূচনা থেকেই সেটি অবলম্বন করে আসছে জলতরঙ্গ। সংগীত তো কেবল পরিবেশনের নয়, তা ধ্যানও বটে। সে ধ্যান জীবনের। জীবনকে নিবিড়ভাবে ভাববার, চিন্তা করবার। যে জীবন সকল অন্ধকারকে পাশ কাটিয়ে আলোর পানে যাত্রা করে। সে আলোর স্পর্শ সংগীতের সপ্তসুরের সাথে সাথে জীবনের সুরকেও ঠিকঠাক স্কেলে মিলিয়ে দেয়। আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে আছে যা, তার গান গায় জলতরঙ্গ।

জলতরঙ্গ ইস্পাত কঠিন হয়ে দাঁড়ায় সমাজের নানান অসংগতির মুখে। যে গান প্রতিবাদের, সে গান তখন ভাষা হয়ে ওঠে জলতরঙ্গের। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অতিক্রম করেছি আমরা। এগোতে চাই এক স্বস্তিময় সুন্দর বাংলাদেশের পানে। গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সোনার বাংলাদেশের স্বপ্নে। সেই সুন্দরের পথকে গতি দেবে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, এমনটাই জলতরঙ্গ কামনা করে।

জলতরঙ্গের শ্রোতার আসর, বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও বর্ষপূর্তি আয়োজন বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনে সমাদৃত ও বিপুল দর্শকপ্রিয়। এ যাত্রাটি খুব সহজ নয় মোটেই। প্রতিটি আয়োজনের পেছনে যে অধ্যবসায় ও সাধনা, তার বদৌলতেই এমন লোকপ্রিয়তা। দীর্ঘ মহড়ায় জলতরঙ্গের শিল্পীরা নিজেদের সর্বোচ্চ নিয়ে হাজির হন।

কোভিডে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়া সংগীতশিল্পী ও যন্ত্রসংগীত শিল্পীদের আশীর্বাদধন্য জলতরঙ্গ। একটি সংগীত দলের বাইরেও জলতরঙ্গ অধিক কিছু। জলতরঙ্গ সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পক্ষে। বৈচিত্র্যের পক্ষে। একজন ট্রান্সজেন্ডার বন্ধুও জলতরঙ্গের অন্য সদস্যদের মতোই স্বাভাবিক বিচরণ করে। কন্ঠ ছেড়ে রবি ঠাকুরের গান গায়। তার ভাষ্য, আমার সংগীতের বিকাশে ও ব্যক্তিজীবনে জলতরঙ্গ অপরিহার্য এক নাম।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ যাবত ৪৫টি শ্রোতার আসর করেছে জলতরঙ্গ। এর মাধ্যমে একটা সুন্দর, বোদ্ধা শ্রোতাদল তৈরি হয়েছে। জলতরঙ্গের অনুষ্ঠানের জন্য তারা অপেক্ষায় থাকেন। প্রত্যেক বছরই বর্ষপূর্তিকে উপলক্ষ্য করে একটা বড় আয়োজন করার পরিকল্পনা থাকে। তবে কোভিড অতিমারির কারণে দুই বছর তা করা সম্ভব হয়নি।




