বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম পর্বের খেলা শেষ। এবার দ্বিতীয় রাউন্ডে ৩২ দলের লড়াই। যে লড়াইয়ে আর পেছনে তাকানোর কোন সুযোগ নেই।পরাজিত হলেই বাদ পড়তে হবে। সবার চোখ এখন দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে। তবে ঘুরে ফিরে সবার চোখ বড় দলের দিকে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডেই আসরের দুই হৃৎকম্পন মরক্কো এবং হল্যান্ড মুখোমুখি হওয়ার কারণে অনেকে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। কেননা দ্রুতই যেকোনো এক দলকে বিদায় নিতে হবে। সহসা এ বিদায় ফুটবলমোদীদের কাম্য ছিল না।
এদিকে প্রথম রাউন্ডের কিছু ঘটনা, কিছু বিতর্কের কারণে শেষপর্যন্ত সেকেন্ড রাউন্ডে উঠতে পারল না ইরান। এবারের বিশ্বকাপে এই দলটি অপরাজিত থাকলেও বিভিন্ন সমীকরণের মারপ্যাঁচে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। গ্রুপ ‘জি’ থেকে বেলজিয়াম ও মিশর দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলেও তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইরানকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল গ্রুপ ‘জে’র দিকে। আজ সকালে এই গ্রুপের দুটি ম্যাচ আর্জেন্টিনা ও জর্ডান এবং অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ম্যাচের উপর ইরানের ভাগ্য ভর করছিল। আলজেরিয়া অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করতে পারলেই ইরানের ভাগ্য দরজা খুলে যেত। কিন্ত শেষপর্যন্ত এই মহা নাটকীয় ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয় এবং দুটি দলই দ্বিতীয় পর্বে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করে। এই ম্যাচে যোগ করা সময়ে আলজেরিয়ার মাহরেজ গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল। কিন্তু এই গোলের ঠিক তিন মিনিট পর আরেকটি নতুন নাটকের জন্ম দেয় অস্ট্রিয়া। যোগ করা সময়ের ছয় মিনিটে গোল করে ৩-৩ সমতা নিয়ে আসে। আর শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ইরানের ভাগ্য দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
ইরান দ্বিতীয় পর্বে যেতে না পারায় দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার একেএম বাতেনও দুঃখ পেয়েছেন। ইরানের জন্য তারও মন খারাপ হয়েছে। আশির দশকে ঢাকার মাঠের অন্যতম স্টপার ব্যাক ছিলেন বাতেন। ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় ব্রাদার্স ইউনিয়নে খেলেছেন। ব্রাদার্সেও বাতেন বলে খ্যাত। ‘৮২ সাল থেকে টানা জাতীয় দলের হয়ে খেলেন তিনি। রাজধানীর কলাবাগানে থাকেন।
সাবেক এ তারকা ফুটবলার বিশ্বকাপের খেলাগুলো যতটা পারছেন দেখছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে পেলে, রবার্তো কার্লোসের ভীষণ ভক্ত ছিলেন। এখন আর্জেন্টিনার মেসির খেলাই বেশি উপভোগ করেন। মেসির খেলা দেখার বেশি চেষ্টা করেন। বাতেন বললেন, ‘ফুটবল আমাদের রক্তে। জীবনের যা কিছু অর্জন সবই ফুটবল ঘিরে।’
এবারের বিশ্বকাপের খেলা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘প্রথম পর্বে বেশকিছু ম্যাচ জমজমাট হয়েছে। তবে সবকিছুর মধ্যেই লিওনেল মেসির চমকপ্রদ খেলা সবাইকে আনন্দ দিয়েছে। প্রতিটি ম্যাচে মেসি গোল করেছেন। মেসির পায়ে যে জাদু আছে সেটা আমরা দেখতে পেয়েছি। মেসির প্রতিটি গোলই অসাধারণ লেগেছে। নকআউটে মেসি আরও জ্বলে উঠবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
সাবেক ফুটবলার বাতেন আর্জেন্টিনার মেসির খেলা পছন্দ করলেও সারাজীবন ব্রাজিলের সমর্থক। ব্রাজিলের দলীয় খেলা সবসময় উপভোগ করেছেন। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে সেই আগের মতো তার মনে হয়নি। বাতেন বললেন, ‘ব্রাজিল এখন সামনে কতটা এগোতে পারে দেখার বিষয়। নকআউটে প্রথমেই এশিয়ার ব্রাজিল বলে খ্যাত জাপানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে জাপান একটুও কমে ছাড়বে না। শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়বে। এর আগে একটি প্রীতি ম্যাচে জাপান ব্রাজিলকে পরাজিত করেছিল। গত বিশ্বকাপে স্পেনকে তারা হারিয়েছিল। এসব মাথায় রাখতে হবে। তবে বড় দল হিসেবে সবদিক দিয়ে এগিয়ে থাকবে ব্রাজিল। এবারের বিশ্বকাপে এই ম্যাচটিও মহাগুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।’
সবশেষে একেএম বাতেন বললেন, ‘ফুটবল গোলের খেলা। এখানে গোল দিয়ে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়। তবে এবারের খেলার ধরন দেখে মনে হয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্সই বেশি ফেভারিট। বড় দলগুলো হয়ত সেকেন্ড রাউন্ড সহজেই পার হবে। তবে ফুটবলের মূল ক্লাইম্যাক্স দেখা যাবে তৃতীয় রাউন্ড থেকেই।’




