
তেল আবিব, ২০ জুন – সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সিরোর সাম্প্রতিক ইসরায়েল সফরকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমবারের মতো সোমালিল্যান্ডের কোনো শীর্ষ নেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল।
বিশ্লেষকদের মতে এই উদ্যোগের নেপথ্যে কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক নয় বরং লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দাব প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব বড় ভূমিকা রাখছে। গত রবিবার জেরুজালেমে পৌঁছান সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট। এটি ছিল দেশটির কোনো নেতার প্রথম ইসরায়েল সফর যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠকে আবদুল্লাহ জানান যে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তারা বিশ্বের কাছে স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছেন এবং ইসরায়েলই প্রথম তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। নেতানিয়াহু এই স্বীকৃতিকে ইহুদিদের আত্মপরিচয়ের লড়াইয়ের সাথে তুলনা করে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
সফরের সময় উভয় দেশ একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় নিরাপত্তা বাণিজ্য কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। লোহিত সাগরের প্রবেশপথে কৌশলগত অবস্থানে থাকা সোমালিল্যান্ড ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কার্যক্রম প্রতিহত করতে এবং লোহিত সাগরের নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই অংশীদারত্ব বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিকে সোমালিয়া এই সফর নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোমালিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এই ধরনের পদক্ষেপ ওই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ডেকে আনতে পারে।
এছাড়া জেরুজালেমে সোমালিল্যান্ডের দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্তেরও নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন ও ওআইসিসহ বিভিন্ন ইসলামি সংস্থা। যদিও সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের খবর সরাসরি স্বীকার করেননি তবে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা নাকচও করে দেননি।
বারবেরা শহরের বিমানবন্দর সামরিক ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে বলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা দাবি করছেন। এই সম্পর্কের মাধ্যমে সোমালিল্যান্ড আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের পথে এক ধাপ এগিয়ে যেতে চায়।
এস এম/ ২০ জুন ২০২৬


