মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং প্রতিরক্ষা খাতে বড় অঙ্কের ব্যয়ের প্রস্তাবসংবলিত একটি বিল পাস হয়েছে। তবে বিলটি এখন সিনেটে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২১৬-২১২ ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটি মূলত দলীয় লাইনে হলেও ছয়জন ডেমোক্র্যাট বিলটির পক্ষে এবং সাতজন রিপাবলিকান এর বিপক্ষে ভোট দেন। এটি ২০২৭ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ), যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক বাজেট গত বছরের প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বিলে ইসরায়েলের সঙ্গে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিধান থাকায় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকানও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিলটির বিরোধিতা করা রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এই আইন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা ইসরায়েলের সঙ্গে আরও গভীরভাবে একীভূত করবে। তার দাবি, বিলের একটি ধারা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিনেটে বর্তমান সংস্করণটি পাস হবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের মতে, সামাজিক কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সামরিক বাজেট এত বড় পরিসরে বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিলটি এখন সিনেটে যাচ্ছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা এর বিপুল ব্যয় এবং বিতর্কিত কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি তুলতে পারেন। গত সপ্তাহেই সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা বিলটি নিয়ে বিতর্কের প্রক্রিয়া আটকে দেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বিলটিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রশাসনের ‘অনুমতিপত্র’ বলে মন্তব্য করেন।
সাধারণত এনডিএএকে প্রতি বছর পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এবার এতে ইউক্রেনের জন্য সহায়তা এবং নির্বাচনসংক্রান্ত সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট-এর মতো বিতর্কিত বিষয়ও যুক্ত হওয়ায় বিলটি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।

