
ওয়াশিংটন, ২১ মার্চ – ইরান যুদ্ধ নিয়ে হঠাৎ সুর নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রচেষ্টা গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ তারা লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তবে একই সময়ে তার প্রশাসন অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত আড়াই হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন করছে। এছাড়া যুদ্ধ ব্যয়ের জন্য কংগ্রেসের কাছে আরও দুইশ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। এর ফলে তার বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।
এদিকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জাহাজে তোলা ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী এই মিশন শেষ করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। শনিবার অভিযানের তৃতীয় সপ্তাহ পূর্ণ হবে।
গত আঠাশে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার পর এই প্রথম হোয়াইট হাউজ থেকে অভিযানের একটি সম্ভাব্য সময়সীমা উল্লেখ করা হলো। ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিতের পরও মাঠের চিত্র ভিন্ন। পারস্য নববর্ষ নওরোজের প্রথম দিনেই তেহরান ও এর আশপাশে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। গিলান প্রদেশের দাস্তাক গ্রামে হামলায় অন্তত দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
এছাড়া সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে বিশটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রিয়াদ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বার্তায় মার্কিন ও ইসরায়েলি এই যুদ্ধকে একটি ভয়াবহ ভুল গণনা বলে অভিহিত করেছেন। নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তিনি ইরানি জনগণের ধৈর্য ও সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
এনএন/ ২১ মার্চ ২০২৬





