ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের পেন্টাগনের অর্থ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট।
গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে হাজির হয়ে তিনি এই তথ্য জানান তিনি। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ২৫ বিলিয়ন ডলারের সিংহভাগই যুদ্ধাস্ত্র বাবদ খরচ হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বাজেট বাড়িয়ে এক দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলার করার প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বাজেট বাড়ানোর বিষয়টির যৌক্তিকতা তুলে ধরার জন্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে হাজির হতে হয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়লেন হেগসেথ। বুধবার শুনানিতে তার সঙ্গে অংশ নিয়েছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ড্যান কেইন।
হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বর্তমানে কম্পট্রোলারের দায়িত্ব সামলানো জুলস হার্স্ট উল্লেখ করেন, এই খরচের বেশিরভাগই ছিল গোলাবারুদের জন্য।
এই ব্যয়ের প্রাক্কলনে ঠিক কী অন্তর্ভুক্ত আছে, হার্স্ট সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের সম্ভাব্য খরচ এই হিসাবে ধরা হয়েছে কি না, তাও তিনি স্পষ্ট করেননি।
হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ হার্স্টের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি খুশি যে আপনি প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন। কারণ আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এই তথ্যটি জানতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু এতদিন কেউ আমাদের সঠিক তথ্য দেয়নি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, যুক্তরাষ্ট্রের সেই লক্ষ্য অর্জনে এই ব্যয় সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
হেগসেথ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে যেন পারমাণবিক বোমা না যায়, তা নিশ্চিত করতে আপনারা কতটুকু মূল্য দিতে রাজি আছেন? কত ব্যয় করবেন আপনারা?
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে হেগসেথ বলেন, এই যুদ্ধকে চোরাবালি মানতে নারাজ। উল্টো এই অজনপ্রিয় যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিরোধী ডেমোক্র্যাট সদস্যদের অযোগ্য ও অদক্ষ বলে আক্রমণ করেন তিনি।
ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্যারামেন্ডির বক্তব্যের জবাবে হেগসেথ বলেন, আপনি একে চোরাবালি বলছেন? এভাবে শত্রুদের হাতে প্রচারণার অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন? আপনার এই বক্তব্যের জন্য লজ্জা হওয়া উচিত।
একইসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের বেপরোয়া, অকর্মণ্য এবং পরাজয়বাদী বলে কঠোর সমালোচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু খুব কমই আছে। বর্তমানের ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ মহলে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। নভেম্বরের নির্বাচনে হাউস ও সেনেটে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, মূল্যস্ফীতি তা আরও উসকে দিচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া উচ্চ বাজারদরের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে সারসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য, যা সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।





