মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান প্রসঙ্গে কোনো ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ হয়নি। তবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, এটি খুব ভালো একটি বৈঠক ছিল। আমাদের দুই দেশের অসাধারণ সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত কিছু হয়নি। তবে আমি জোর দিয়েছি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে, দেখতে হবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব কি না।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর এটি ছিল নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানোর ষষ্ঠবার। জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এ পর্যন্ত তারা সাতবার সাক্ষাৎ করেছেন, যার একটি ছিল ইসরায়েলে।
ওমানে পরোক্ষ আলোচনা
নেতানিয়াহুর এই সফরের কয়েকদিন আগে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আরব নেতারা যেখানে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন, সেখানে নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
একান্তে বৈঠক ও ট্রাম্পের বার্তা
নেতানিয়াহুর সফরটি ছিল রুদ্ধদ্বার বৈঠক। বৈঠক শেষে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, এটি ছিল “দারুণ বৈঠক” এবং ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্প বলেন, যদি চুক্তি সম্ভব হয়, সেটিই আমাদের অগ্রাধিকার। আর যদি সম্ভব না হয়, তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায় তা দেখা যাবে।
গত জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। ওই সংঘাতের এক পর্যায়ে ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
বুধবারের পোস্টে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ইস্যু
নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, বৈঠকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা চাহিদা, ইরানের সঙ্গে আলোচনা, গাজা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশ সমন্বয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে বলেও জানানো হয়।
ইরানের অবস্থান: ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনাতীত
ওমানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অংশ নেন।
মার্কিন প্রশাসন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, আলোচনায় তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে—
ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলী শামখানি বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আলোচনাতীত।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ—এটি প্রমাণে তারা প্রস্তুত, কিন্তু অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) নামে একটি চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন এবং সর্বোচ্চ চাপ নীতি পুনর্বহাল করেন।



