ইরানে হামলা চালাবে না কুর্দিরা, ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা – DesheBideshe

ইরানে হামলা চালাবে না কুর্দিরা, ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা – DesheBideshe

ইরানে হামলা চালাবে না কুর্দিরা, ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা – DesheBideshe

ইরান, ২৬ মার্চ – ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ধারণা করেছিল যে প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করা সম্ভব হবে। তারা আশা করেছিল এর ফলে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে এবং গণবিক্ষোভের মুখে ইরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে।

তবে বাস্তবে এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা এখন পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে টিকে রয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিস্থিতি না এগোওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কৌশল পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা শুরু করে। স্থলপথে হামলার মাধ্যমে দেশটি দখলের পরিকল্পনা করা হলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য তা বাস্তবসম্মত নয় বলে প্রতীয়মান হয়। এর বিকল্প হিসেবে ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাক অঞ্চলে অবস্থানরত কুর্দি যোদ্ধাদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা একাধিকবার দাবি করেছেন যে কুর্দি বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। কিন্তু ওয়াশিংটনের সেই প্রত্যাশাও শেষ পর্যন্ত পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য কানাডা জার্মানি এবং ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো একে একে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী কুর্দি যোদ্ধারাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনোভাবেই ইরানে আক্রমণ চালাবে না। একজন শীর্ষস্থানীয় ইরাকি কুর্দি কমান্ডার নিশ্চিত করেছেন যে তার বাহিনীর ইরানে আক্রমণ চালানোর কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই। তবে কুর্দি ঘাঁটিগুলোতে ইরানের অব্যাহত সামরিক হামলার কারণে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পেশমারগা বাহিনীর মেজর জেনারেল এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরওয়ান বারজানি জানিয়েছেন যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে প্রায় ৪৩০টি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

উত্তর ইরাকে ইসলামিক স্টেট বা আইএস বিরোধী কুর্দি ফ্রন্টলাইনের দায়িত্ব পালন করা সিরওয়ান মঙ্গলবার ২৪ মার্চ সংবাদমাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। কাকতালীয়ভাবে ওই দিনেই ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেশমারগা বাহিনীর অন্তত ৬ জন সদস্য নিহত এবং আরো ৩০ জন আহত হন।

ইরাকি কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানির আত্মীয় এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানির ভাতিজা সিরওয়ান এই ঘটনাকে একটি সুস্পষ্ট সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

ইরানের হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সিরওয়ান প্রশ্ন তোলেন যে কেন প্রতিদিন পেশমারগা ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে এবং এর পেছনের আসল উদ্দেশ্য কী। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধন ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।

এ এম/ ২৬ মার্চ ২০২৬



Scroll to Top