ইসরায়েলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান প্রথমবারের মতো দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। একই সময়ে ইরানের একটি হামলায় ইসরায়েলের একটি পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় বহু মানুষ আহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক প্রধান ইয়াল জামির জানান, ইরান ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিতে ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, এই সংঘাতে প্রথমবারের মতো ইরান এত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
তিনি আরও বলেন, “এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কেবল ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নয়; এগুলো ইউরোপের বার্লিন, প্যারিস ও রোম পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।”
এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ইসরায়েলে ইরানের হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে।
শনিবার রাতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ ইসরায়েলের দিমোনা ও আরাদ শহরে আঘাত হানে, এতে বহু মানুষ আহত হয়, যার মধ্যে শিশুও ছিল। ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে তারা সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “আমাদের ভবিষ্যতের জন্য এই লড়াই খুব কঠিন হয়ে উঠেছে। আমরা সব ফ্রন্টে আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে আঘাত চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার কথা ভাবছেন।
ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার খবরও পাওয়া গেছে, তবে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়নি বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এই যুদ্ধের কারণে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।




