ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানাল হামাস | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানাল হামাস | চ্যানেল আই অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিরল এই আহ্বানে সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইরানের ভাইদের অনুরোধ করছে যেন তারা প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সব দেশকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে একই বিবৃতিতে হামাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ায় আত্মরক্ষার অধিকার তেহরানের রয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে নয়। তবে বাস্তবে এসব হামলার অনেকগুলোই বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হেনেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দেওয়া বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধে সব রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে হামাসের এই আহ্বান নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।

গত দুই সপ্তাহে ইরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অনুভূত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা বিদেশি শ্রমিক। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ ছয়জন এবং কুয়েতে-এ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ওমান, সৌদি আরব ও বাহারাইন এই তিন দেশে দুইজন করে নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

অর্থ, অস্ত্র ও রাজনৈতিক সমর্থনের দিক থেকে ইরানই হামাসের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনাকে আগে জঘন্য অপরাধ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছিল হামাস। হামাস ইরানের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স-এর অংশ, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রভাব মোকাবিলার উদ্দেশ্যে গঠিত একটি ঢিলেঢালা জোট।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি হামলার মুখে পড়া তুরুস্ক ও কাতারও হামাসকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ভয়াবহ যুদ্ধ চলেছিল। পরে গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে একে অপরের বিরুদ্ধে হামাস ও ইসরায়েল। হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৪৯ জন নিহত হয়েছেন।

Scroll to Top