
ওয়াশিংটন, ২১ এপ্রিল – ইরাকের ওপর অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত এবং ডলারের প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ইরাকের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। ইরাকের সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে দেশটি বর্তমানে মার্কিন ডলারের সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
২০০৩ সাল থেকে ইরাকের খনিজ তেল বিক্রির সমস্ত অর্থ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়ে আসছে। ফলে ওয়াশিংটন বাগদাদের অর্থনীতির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ইরাকের খাদ্য, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের জন্য এই ডলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগদ অর্থের প্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাকের অভ্যন্তরীণ বাজারে তারল্য সংকট এবং পণ্যমূল্য বৃদ্ধির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক অবরোধের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসন সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং যৌথ নিরাপত্তা বৈঠকগুলোও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরাকের রাজনৈতিক কাঠামো থেকে মিলিশিয়াদের প্রভাব দূর করা এবং মার্কিন স্থাপনায় হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর আঞ্চলিক তৎপরতা বৃদ্ধিতে ট্রাম্পের প্রশাসন এই আর্থিক কৌশল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরাকে নির্বাচনের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও শিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিভক্তির কারণে নতুন সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি। ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ মূলত রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী নতুন সরকার গঠনের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে এই অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াতে পারে এবং ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে আরও উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এস এম/ ২১ এপ্রিল ২০২৬





