
বাগদাদ, ১৬ জুন – বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে নামার স্বপ্ন দেখেন প্রতিটি ফুটবলার। সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে ২৩ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার জিদান ইকবালের। মঙ্গলবার ইরাকের হয়ে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন।
জনসংখ্যায় বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ হওয়া সত্ত্বেও ফুটবলের বৈশ্বিক আসরে পাকিস্তানের প্রাপ্তি এতদিন ছিল শূন্য। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে জিদান ইকবালের হাত ধরে। তিনি হতে যাচ্ছেন পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলা প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একাডেমিতে ফুটবল পাঠ নেওয়া এই ফুটবলার বর্তমানে খেলছেন ডাচ ক্লাব এফসি উট্রেখটে। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া জিদানের বাবা পাকিস্তানি এবং মা ইরাকি। নিজের শেকড় নিয়ে দারুণ গর্বিত এই ফুটবলার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেছে নিয়েছেন ইরাককে।
তার এই কৃতিত্বের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাবা ছেলে উভয়েই বেশ অভিভূত হন। মাঠের লড়াইয়েও তিনি তার ঐতিহ্যকে তুলে ধরেন বিশেষ বুট পরার মাধ্যমে। তার বুটের বাম পাশে ইরাকের এবং ডান পাশে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা স্থান পায়। জিদান ইকবালের ক্যারিয়ারে অর্জনের খাতাটি বেশ সমৃদ্ধ।
এর আগে প্রথম ব্রিটিশ দক্ষিণ এশীয় ফুটবলার হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক পর চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তিনি। নিজের এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি দক্ষিণ এশীয় তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে যেকোনো পটভূমি থেকেই ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।
পাকিস্তানি ফুটবল প্রেমীদের মাঝেও জিদানকে নিয়ে বইছে উন্মাদনার ঢেউ। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, জিদান কেবল একজন খেলোয়াড় নন বরং দক্ষিণ এশিয়ার অগণিত তরুণের স্বপ্নের প্রতীক। ১৯৮৬ সালের পর দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে ইরাক।
মেক্সিকোর মাটিতে তারা লড়বে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বে কঠিন প্রতিপক্ষ থাকলেও চাপমুক্ত থেকে বিশ্বকে চমকে দিতে মুখিয়ে আছেন জিদান ইকবাল।
এস এম/ ১৬ জুন ২০২৬





