পাকিস্তানের কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানিয়েছে তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) তার সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানিয়েছে দলটি।
দলটির দাবি, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে খানের পরিবার ও আইনজীবীদের তাকে দেখার অনুমতি দিচ্ছে না।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি অভিযোগ করে আসছেন যে, রাজনৈতিকভাবে তাকে নিষ্ক্রিয় করতে সেনাবাহিনীর প্রভাবেই এসব মামলার সৃষ্টি—যা পাকিস্তান সেনাবাহিনী অস্বীকার করেছে।
পিটিআই মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বলেন, “৪ নভেম্বরের পর থেকে কেউ ইমরান খানকে দেখেনি। কোনও কারণও জানানো হয়নি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তার সাক্ষাৎ ও চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ রাখা হয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”
সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন সিটিতে অবস্থিত কারাগারের সামনে খানের পরিবার ও দলীয় নেতারা বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার পিটিআইয়ের একটি প্রতিনিধি দল কারাগারে গিয়ে সাক্ষাতের চেষ্টা করলে কর্তৃপক্ষ পুনরায় প্রবেশাধিকার অস্বীকার করে।
কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে অন্তত একবার বাইরের লোকের সাথে দেখা করার অনুমতি থাকলেও, পিটিআই দাবি করেছে যে ইমরান খানকে বহু সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেট তারকাকে সম্ভবত আরও “উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগারে” সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে তার সাথে দেখা করা আরও কঠিন হয়।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি তুমুল আলোচনার সৃষ্টি করেছে, এবং বৃহস্পতিবার এক্স-এ `হ্যাশট্যাগ ইমরান খান কোথায়’ টেন্ডে শীর্ষে উঠে আসে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে একজন কারা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইমরান খান সুস্থ আছেন এবং তাকে অন্য কোনও স্থানে স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এই তথ্য দেন।
২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসা ইমরান খান ২০২২ সালে সংসদীয় ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন, যখন তার সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালের মে মাসে তার গ্রেপ্তার দেশজুড়ে সামরিকবিরোধী বিক্ষোভ সৃষ্টি করে, যার ফলে পিটিআইয়ের ওপর কঠোর দমন নেমে আসে।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, তবে দলটি দাবি করে যে, কারচুপির কারণে তাদের বিজয় ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নেতৃত্বে অন্য দলগুলোকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। শরীফ ও তার দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে।




