যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ শব্দগুচ্ছ থেকে ‘ইন্দো’ বাদ দেওয়ার পর দেশটির এশিয়াবিষয়ক কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল থেকে সরে আসার ইঙ্গিত হতে পারে।
মতামতধর্মী এক নিবন্ধে নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রহ্মা চেলানি বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ শুধু একটি ভৌগোলিক পরিভাষা ছিল না; এটি ছিল চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের একটি বিস্তৃত কৌশলগত ধারণা।
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের প্রস্তাবিত ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। এই কাঠামোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত কোয়াড জোটকে সক্রিয় করা হয় এবং চীনকে প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চেলানির মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসন চীনের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সমঝোতা ও চুক্তিনির্ভর সম্পর্কের দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে কোয়াডের কার্যক্রমও আগের তুলনায় কম গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনকে ভারসাম্য রক্ষার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনার অংশীদার হিসেবে দেখতে শুরু করে, তাহলে জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোর জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের মূল লক্ষ্য ছিল শক্তিশালী অংশীদারদের সমন্বয়ে এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা। ভারত, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া এ কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
চেলানির দাবি, ‘ইন্দো’ শব্দটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রতীকী হলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কৌশলগত অগ্রাধিকারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।
তার মতে, যদি ওয়াশিংটন জোটভিত্তিক কৌশলের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে বৃহৎ শক্তির সমঝোতার পথে এগোয়, তাহলে তা এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রসঙ্গত; চেলানি মূল্যায়ন ও আশঙ্কাগুলো তার মতামত, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
তথ্যসুত্র: ওয়াশিংটন ডিসি-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিল’।



