ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর সঙ্গে তৈরি হওয়া বৈরিতা পৌঁছাল আর চরমে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনক্যাকাফের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি)। ইনফান্তিনোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রয়োজনে ফিফার বাইরে নিজেদের উদ্যোগে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে তিন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসএক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিষয়টি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মালিকানার অংশ বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যদিও ফিফা সভাপতি এখনও লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য আবারও প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। তাদের পাশে রয়েছে আরও কয়েকটি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রয়োজনে ফিফার বিকল্প হিসেবে নতুন একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট চালুর প্রস্তুতিও রয়েছে উয়েফার। জানা গেছে, ২০১৭ সালেই একটি বৈশ্বিক লিগের নকশা তৈরি করিয়েছিল সংস্থাটি, যদিও সেটি কখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি।
দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে দ্য টাইমস বলেছে, ‘সবাই খুবই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে ইনফান্তিনোকে যেতে হবে। যদি তিনি না যান, তাহলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোর বিষয়ও রয়েছে। বড় সাউথ আমেরিকান দেশগুলো কি ফ্রান্স বা স্পেনের বিপক্ষে খেলতে চাইবে, নাকি লেবাননের বিপক্ষে? সবাই এখন এক অবস্থানে রয়েছে, আর পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।’
ইনফান্তিনো বিরোধীরা ‘গভর্ন্যান্স বয়কট’ আরোপের কথাও ভাবছে। তারা ফিফা কাউন্সিল বা বিভিন্ন কমিটির বৈঠকে অংশ নেবে না, যাতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ জানানো যায়। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যেই ইনফান্তিনোর পুননির্বাচনের সমর্থনে দেওয়া চিঠি প্রত্যাহার করেছে। অথচ গত জুনে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সমর্থন জানিয়েছিল।



