আসামে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিয়ে নথিভুক্তিকরণ (রেজিস্ট্রেশন) প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে কাজীদের পরিবর্তে সরাসরি সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ‘আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা, ২০২৬’ অনুমোদন লাভ করে। এর মধ্য দিয়ে কাজীদের মাধ্যমে বিয়ে নথিভুক্ত করার ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, পুরো রাজ্যে মুসলিম বিয়ে নিবন্ধনের জন্য একটি সমন্বিত ও অভিন্ন সরকারি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারাই এখন থেকে এই দায়িত্ব সামলাবেন। আবেদনকারীদের সংখ্যা ও কাজের চাপ বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি রেজিস্ট্রার নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ‘আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন’ পাসের মাধ্যমে কাজীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনের একচ্ছত্র আইনি ক্ষমতা বাতিল করা হয়েছিল। তবে সে সময় বিকল্প প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে পরিচালিত হবে, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধিমালা নির্ধারিত ছিল না। নতুন এই বিধিমালা অনুমোদনের ফলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অস্পষ্টতা দূর হলো।
নতুন নিয়মানুযায়ী, বিয়ে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বর ও কনের বয়স, পরিচয়পত্র এবং স্থায়ী ঠিকানার সঠিক প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতির লিখিত ঘোষণাপত্রও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আইনেই কনের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং বরের ২১ বছর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী বিয়ে নথিভুক্তকরণ বাধ্যতামূলক ছিল না। পরবর্তীতে ২০১০ সালে সংশোধনী এনে এটি বাধ্যতামূলক করা হলেও রেজিস্ট্রেশনের এখতিয়ার কাজীদের হাতেই থেকে যায়।
রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন এই প্রশাসনিক ব্যবস্থার ফলে বিয়ে সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণে শৃঙ্খলা আসবে এবং ভুয়া তথ্য বা নথি দিয়ে বাল্যবিবাহ দেওয়ার প্রবণতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার হবে। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও আইনি বৈধতার জন্য সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছেই নিবন্ধন সারতে হবে।
সূত্র- হিন্দুস্থান টাইমস




