শেষ ষোলো পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে স্পেন ও বেলজিয়াম। বেলজিয়াম বড় ব্যবধানে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। স্পেনের সাথে পারেনি পর্তুগাল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর তাই কোন নতুন ফুটবল ইতিহাস তৈরির সব পথ বন্ধ হয়ে গেল। স্বভাবতই বিষণ্ণ আর অশ্রুসিক্ত চোখে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হল রোনালদোকে। আর কোন বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে তাকে দেখা যাবে না। গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল পর্তুগাল। এবার তাও হল না। কিশোর-কিশোরী আর তরুণ-তরুণীদের কাছে ভীষণ ভীষণ জনপ্রিয় নাম সিআর সেভেন খ্যাত রোনালদো। মোট ছয় বিশ্বকাপ খেলেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে সেই অর্থে বড় কোন সাফল্য আসেনি। অথচ প্রতিবারই রোনালদোকে ঘিরেই পর্তুগালের স্বপ্ন ছিল বিস্তৃত।
শেষ ষোলোতে পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যেকার ম্যাচে তেমন একটা উত্তাপ ছিল না। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জৌলুস তাও ছিল না। অনেকটাই সমান্তরাল ম্যাচে শুধু যোগ করা সময়ে স্পেনের মাইকেল মেরিনো গোল করেন। খেলা তখন শেষ প্রান্তে। ফলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল পর্তুগালের ফেরার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অবশেষে চোখের জলে বিদায় নিতে হয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে।
সাবেক তারকা ফুটবলার বর্তমানে কানাডা প্রবাসী মামুন জোয়ার্দার বলছিলেন, ‘স্বাভাবিক রেটিংয়ে এই ম্যাচে স্পেনই এগিয়েছিল। কিন্তু এমন ম্যাচে যেকেউ জিততে পারে। আবার সে ম্যাচে যদি একজন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো থাকে তাহলে তো বাড়তি আকর্ষণও থাকে। সেই নিরিখে পর্তুগালও জিততে পারে সে প্রত্যাশার ঢেউ ছিল ফুটবল অনুরাগীদের মাঝে। বিশেষ করে রোনালদো ভক্তদের মাঝে অনেকবেশি আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পেন ম্যাচে জয়ী হয়।’
মামুন জোয়ার্দার আরও বললেন, ‘এ ম্যাচে লড়াইয়ের ধার ছিল কম। ম্যাচ ছিল অনেকটাই শ্লথ। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের তীব্রতা ততোটা ছিল না। ম্যাচের গতিও ছিল মন্থর। ফলে শেষমেশ একটা স্বাভাবিক ফয়সালা হয়। জয় তুলে নেয় স্পেন। তবে সবার চোখ ছিল রোনালদোর দিকে। রোনালদোর চেষ্টা ছিল। সফল হতে পারেনি।’ এটি সত্য বিশ্বকাপ ফুটবলে আর রোনালদোকে দেখা যাবে না। শিশু-কিশোরদের কাছে সে ছিল খুব প্রিয়। আরেকজন রোনালদো পর্তুগাল কবে পাবে কেউ তা বলতে পারবে না।
মামুন জোয়ার্দার নব্বই দশকে ঢাকার মাঠের এক আকর্ষণীয় ফুটবলার হিসেবে পরিচতি ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন অনেক অনেক দিন। বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে চলে গিয়েছিলেন কানাডাতে। তবে ফুটবল নিয়ে তিনি এখনও সরব, প্রাণবন্ত। কানাডাতে বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ তিনি স্টেডিয়ামে বসে দেখেছেন। বিশ্বকাপ ফুটবলের আদ্যোপান্ত খোঁজখবর রাখেন তিনি। বিভিন্ন টকশো, আলোচনাতে নিজের মতামত তুলে ধরেন। সবসময়ই তিনি জার্মান ফুটবলের অনুরাগী। তবে জার্মানির দ্রুত বিদায় তিনি সহজভাবেই গ্রহণ করেছেন।
বিশ্বকাপ ট্রফি নেবে কোন দেশ? মামুন মনে করেন এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ম্যাচের যে গতি-প্রকৃতি তাতে করে অনেক এগিয়ে ফ্রান্স। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধ তার কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। মামুন বললেন, ‘এই ম্যাচটির দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। এই ম্যাচটি ফ্রান্স কীভাবে সামাল দেয় সেটা দেখার বিষয়। ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে গতবারের বিশ্বকাপ হারানোর দুঃখ মোচনে তারা অনেক এগিয়ে যাবে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে হারাতে পারলে ফ্রান্সের পথ খুব সহজ হবে।’
তবে এই বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে আর্জেন্টিনাকেও অন্যভাবে দেখছেন মামুন জোয়ার্দ্দার। তার মতে, ‘আর্জেন্টিনা পিছিয়ে নেই। কিন্ত দলগত নৈপূণ্যের চেয়ে তাদের দলের অন্যতম কান্ডারি মেসির পারফরম্যান্সের আলো বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। মনে হচ্ছে মেসি একাই দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এটা সত্য, মেসি প্রমাণ করেছেন বয়স বাড়লেও একজন পরিপূর্ণ ফুটবলার কেমন হতে পারে। দেশের জন্য তিনি কতটুকু প্রতিদান দিতে পারেন। মেসির এই কমিটমেন্ট মাঠে শতভাগ প্রদর্শিত হচ্ছে। মেসি শেষটা কীভাবে করেন সেটাও দেখার বিষয়। মেসির সমান্তরাল কিন্তু কেউ নেই। একটা পুরো টমিকে পরিচালনা করছেন তিনি।’
আজকে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যেকার ম্যাচে আর্জেন্টিনাকেই বেশি এগিয়ে রাখছেন মামুন জোয়ার্দার। তার মতে, ‘আর্জেন্টিনা জয়ের সমীকরণে ৬০% এগিয়ে। ৪০% এগিয়ে আছে মিশর। আজ আর্জেন্টিনা জয়ী হলে মেসিকে ঘিরে আরও স্বপ্ন রচিত হবে। বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত মেসির থাকার দরকারও আছে। এমন তারকা না থাকলে ফুটবলে যে অনিঃশেষ আনন্দ- সেই আনন্দ উড়ে যায়।’
সবশেষে মামুন বলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই স্পষ্ট হবে শিরোপা কাদের ঘরে যাবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে। ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড- পরিস্কার হবে কোয়ার্টার ফাইনালের যুদ্ধ শেষ হলে। এই যুদ্ধে আরও মন খারাপ হতে পারে কট্টর সমর্থকদের।’



