উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) সদস্যদেশগুলো ইরানের শত্রু হিসেবে এ সংকটে জড়ায়নি। বরং বছরের পর বছর ধরে তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে অত্যন্ত সচেতনভাবে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
২০১৯ সালে সৌদি আরব আলোচনার পথ বেছে নেয় এবং তেহরানের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক
সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হয়। সেই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপ ছিল ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া ঐতিহাসিক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি এবং পুনরায় দূতাবাস চালু। রিয়াদের ভাষ্য ছিল—সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা সম্ভব। বর্তমান সংকট যখন ঘনীভূত হচ্ছিল, তখনো সৌদি আরব স্পষ্টভাবে তেহরানকে নিশ্চিত করেছিল যে ইরানের ওপর হামলা চালাতে তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। সৌদি আরব তার কথা রেখেছে, কিন্তু বিনিময়ে সম্মানটুকু তারা পায়নি।
মধ্যস্থতার জন্য বছরের পর বছরে চেষ্টা চালিয়ে গেছে কাতার। তারা হামাস ও ইসরায়েল এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগসূত্র হিসেবে কাজ করেছে। যখন খুব কম দেশই এগিয়ে এসেছিল, তখন দোহা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আয়োজন করেছিল এবং কূটনৈতিক সমাধানের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছিল।
অন্যদিকে ওমান সেই নিভৃত মধ্যস্থতকারী, যাদের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধের আগমুহূর্ত পর্যন্ত একটি চুক্তির ক্ষীণ আশা বেঁচে ছিল। বোমা বর্ষণ শুরু হওয়ার আগের দিনও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি শান্তি ‘হাতের নাগালে’ আছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
ইরান নিজেও তাদের (জিসিসিভুক্ত দেশগুলো) আন্তরিকতাকে পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে। ৫ মার্চ তেহরান প্রকাশ্যে সৌদি আরবের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তেহরানের সেই স্বীকৃতিই এখন ইরানের কর্মকাণ্ডকে আরও বেশি স্ববিরোধী এবং অমার্জনীয় করে তুলেছে।



