জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে আরও ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছে সরকার। এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার দুটি চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৯তম সভায় এলএনজি কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ট্রাফিগুরার সরবরাহ করা এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম সূচকের চেয়ে প্রতি এমএমবিটিইউতে ০.১০ ডলার কম। তবে দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এলএনজি কার্গোর সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।
একই দিনে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৩৩তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি এলএনজি ক্রয় প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
প্রথম প্রস্তাবে চেনিয়েরে মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল এলএলপি ও ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের সরবরাহ প্রস্তাব সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড, সাহারা এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড এবং শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট লিমিটেড এফজেডই থেকে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার দুটি চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবেও সম্মতি দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
প্রকল্পটির নির্মাণ চুক্তির মূল মূল্য ছিল প্রায় ২০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। ভেরিয়েশনের মাধ্যমে এতে আরও ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি যোগ হওয়ায় সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। এতে মূল চুক্তির তুলনায় ব্যয় বাড়ছে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ করছে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি নিয়ে গঠিত অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম।
অন্যদিকে, প্রকল্পের পরামর্শক সেবার চুক্তিতেও বড় অঙ্কের ব্যয় বাড়ছে। এ চুক্তির মূল মূল্য ছিল প্রায় ৭৭২ কোটি টাকা। ভেরিয়েশনের মাধ্যমে ৪০৫ কোটি টাকা যোগ হওয়ায় সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। এতে ব্যয় বৃদ্ধির হার ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
পরামর্শক সেবার কাজ করছে জাপানের নিপ্পন কোয়ি ও ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্টস এবং বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টসের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ উদ্যোগ।



