আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানের মা অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী।
রোববার (৬ জুলাই) এক শোকবার্তায় বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠের অগ্রসেনানী, ফ্যাসিবাদের জম, সত্য ও ন্যায়ের পথে নির্ভীক যোদ্ধা, আমার অগ্রজসম, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানের মা সর্বজন শ্রদ্ধেয়া অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগম আজ ভোরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
অধ্যাপিকা মাহমুদা বেগমের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, আজীবন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকা হিসেবে তিনি হাজার হাজার মানুষকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আদর্শ স্থাপন করে গেছেন। তার মৃত্যুতে আমি ও আমার পরিবারের সকল সদস্যদের পক্ষ থেকে আন্তরিক শোক প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, দোয়া করি মহান আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। পরিবারের সবাইকে এই শোক সইবার শক্তি দিন, এই শুন্যতা পূরণ করে দিন এবং এই মহীয়সী নারীর পথ অনুসরণ করে সকলকে দেশ ও জাতির কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করার তৌফিক দিন। আজকে উনার জানাযায় শরীক হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের ফলে দীর্ঘ ৮ বছর আয়নাঘরের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আমি প্রায় তিনমাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। সেসময় এই মা আমার পাশের কেবিনে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। আমি প্রায় প্রতিদিনই উনার সাথে দেখা করতাম। নিজের সন্তানের মতই স্নেহের সুরে কথা বলতেন। আমার কষ্টের কথা শুনতে চাইতেন।
আযমী বলেন, আমার দুঃখিনী মায়ের শেষ দিনগুলো সম্পর্কে জানতে চাইতেন তিনি। আমার কষ্ট দূর করার জন্য মায়ের মত করে শান্তনা দিতেন। শক্তি জাগানিয়া কথা বলতেন। অচেনা অজানা একজনকে আপন করে নেয়ার যে যাদুকরী ক্ষমতা ছিল উনার মাঝে, তা এই পৃথিবীতে বিরল। আপন কর্মের মাঝেই বেঁচে থাকবেন জাতির এই মহান মাতা।
এসময় ড. মাহমুদুর রহমানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনার সুযোগ্য সন্তান ড. মাহমুদুর রহমান সাহেব নিয়মিত মাকে দেখতে যেতেন। তিনি এলেই আমার সাথে মা-ছেলের দেখা হতো। স্যার, ড. মাহমুদুর রহমান দেশ ও জাতির খেদমতে আপনার মত বীরদের কর্ম সকলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আপনি এগিয়ে যান, দেশবাসী আপনার সাথে রয়েছে।





