ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এডনালদো রদ্রিগেজকে পদ থেকে সরিয়ে দিলেন রিও ডি জেনেইরোর আদালত। একইসঙ্গে সহ-সভাপতি ফের্নান্দো সার্নিকে অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সিবিএফের নতুন নির্বাচনের আদেশ দিয়েছেন। যদিও রদ্রিগেজ পদ ফিরে পেতে আপিল করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টে।
ব্রাজিলের গণমাধ্যমে প্রতিবেদন, আদালতের বিচারক গ্যাব্রিয়েল দে অলিভেইরা জেফিরো এ সিদ্ধান্ত দেন। সিবিএফের সভাপতিকে এমন সময়ে সরিয়ে দেয়া হল, যার দিন তিনেক আগে তিনি জাতীয় দলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ইতিমধ্যে উভয়পক্ষ ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
রদ্রিগেজকে অপসারণের নির্দেশনাটি এসেছে সিবিএফের সাবেক সভাপতি আন্তোনিও কার্লোস নুনেস দে লিমার সই জাল করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বছরের শুরুতে নুনেস দে লিমা ও রদ্রিগেজ এমন একটি চুক্তি করেন, যা রদ্রিগেজকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সিবিএফ প্রধান পুননির্বাচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।
রিও ডি জেনিরো আদালতের বিচারক গ্যাব্রিয়েল দে অলিভেইরা জেফিরো রায়ে বলেছেন, নুনেসের পক্ষে যে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে, তা হল স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে তিনি শুনানিতে হাজির হতে পারেননি। বিচারক আরও জানান, ওই সাবেক সভাপতির মানসিক সক্ষমতা ২০১৮ সাল থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ, যেহেতু সেসময় তার মস্তিষ্কে ক্যান্সার ধরা পড়ে।
বিচারক বলেন, ‘আমি ঘোষণা করছি যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত এবং পূর্বে উচ্চ আদালত কর্তৃক অনুমোদিত চুক্তিটি বাতিল ও অকার্যকর। কারণ আন্তোনিও কার্লোস নুনেস দে লিমার মানসিক অক্ষমতা এবং তার সইয়ে সম্ভাব্য জালিয়াতি রয়েছে। এর ফলে যৌক্তিক পরিণতি হচ্ছে বর্তমান সিবিএফ প্রশাসনের বৈধতা স্বীকার না করা। সংগঠনটি নেতৃত্বশূন্য থাকতে পারে না এবং আইনের অধীনে বৈধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এখন অত্যাবশ্যক।’
রদ্রিগেজ এর আগেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রিও ডি জেনিইরোর কোর্ট অব জাস্টিসের এক রায়ে সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হয়েছিলেন। তখন সিবিএফের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘিরে বিরোধের জেরে ওই ঘটনা ঘটেছিল। তবে একমাস পর ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক গিলমার মেন্ডেস তাকে পদে পুনর্বহাল করেন। যুক্তি দেয়া হয়েছিল, রদ্রিগেজ না থাকলে ব্রাজিল জাতীয় দলকে ফিফা নিষিদ্ধ করতে পারে।
এদিকে আদালতের আদেশে সাময়িক সময়ের জন্য ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান হওয়া সার্নি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি নতুন নির্বাচন আয়োজনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। সিবিএফের সকার কমিটিতে দীর্ঘসময় ধরেই সহ-সভাপতি পদে আছেন তিনি। নতুন করে সভাপতি পদে দায়িত্ব পেলেও সবধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম ও চুক্তি বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই আনচেলত্তির চুক্তি বৈধ বলে নিশ্চিত করেছে সিবিএফ। যাতে সম্মতি দিয়েছে কোচ এবং সিবিএফ উভয়পক্ষ। তিনি আনচেলত্তির সঙ্গে ব্রাজিলের চুক্তির বিষয়টিতে স্পর্শ করবেন না বলেও জানিয়েছেন।







