আধুনিক কূটনীতিতে কেন অচল হচ্ছে ‘চাণক্য ডকট্রিন’

আধুনিক কূটনীতিতে কেন অচল হচ্ছে ‘চাণক্য ডকট্রিন’

প্রথমেই ভারত, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের কথাই ধরা যাক। ১৯৪৭ সাল থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম বৈরিতা বিরাজ করছে। চাণক্যর যুক্তি মেনে চললে পাকিস্তানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শত্রুভাবাপন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, সৌদি আরব কেবল পাকিস্তানকেই বড় আকারের আর্থিক সহায়তা দেয় না; বরং ভারতের সঙ্গেও নিজেদের বিনিয়োগ ও জ্বালানি সম্পর্ক ক্রমে গভীরতর করে তুলছে। এখানে সৌদি আরব কারও বন্ধুর শত্রু হওয়ার চিরাচরিত দায়ভার গ্রহণ করেনি।

একইভাবে ভারত, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্কের দিকে তাকালে নতুন এক দৃশ্য দেখা যায়। চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা রয়েছে। তবে রাশিয়া একই সঙ্গে এই দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গে শক্তিশালী কৌশলগত সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছে। রাশিয়া যেমন ভারতের প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী, তেমনি আবার চীনের সঙ্গেও তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা অতুলনীয়। চাণক্যর সূত্রের ঊর্ধ্বে উঠে এখানে প্রতিটি রাষ্ট্র নিজ নিজ স্বার্থে সব পক্ষের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখছে।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন সংকটেও ভারত ভারসাম্যের রাজনীতি দেখাচ্ছে। একদিকে ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে উচ্চ প্রযুক্তির সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের পুরোনো রাজনৈতিক সমর্থন থেকেও পিছিয়ে আসছে না। এখানে প্রতিপক্ষ দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বের ডোরে বাঁধা থেকে সুবিধা আদায় করাটাই আধুনিক কূটনীতির আসল ক্যারিশমা।

Scroll to Top