‘আদিম’-এর পর এবার ‘অতল’ নিয়েও যুবরাজের গন্তব্য মস্কো | চ্যানেল আই অনলাইন

‘আদিম’-এর পর এবার ‘অতল’ নিয়েও যুবরাজের গন্তব্য মস্কো | চ্যানেল আই অনলাইন

আবারও মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘আদিম’ খ্যাত নির্মাতা যুবরাজ শামীমের নতুন ছবি ‘অতল’, ইংরেজি নাম ‘ইন বিটুইন লিভিং’। সদ্য এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন্ন মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৮তম আসরে ‘অ্যাপকিলপস্ নাউ’ সেকশনে মনোনীত হয়েছে যুবরাজের ‘অতল’।

এর আগে যুবরাজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আদিম’ মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৪তম আসরে মনোনীত হয়েছিল এবং সেই আসরে ছবিটি স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড এবং নেটপ্যাক জ্যুরি অ্যাওয়ার্ড পায়।

এ বছর নির্মাতার নতুন ছবিটি মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে না থাকলেও ‘নেটপ্যাক কমপিটিশন’-এ প্রতিযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন যুবরাজ।

‘অতল’ যুবরাজের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। যেখানে অস্তিত্ব সংকটে ভোগা একজন মানুষের মনস্তত্ব ভিজ্যুয়াল করেছেন নির্মাতা। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, একজন মানুষ যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যু পরবর্তী জীবন পার করছেন কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছেন। যেখানে সময়, তার চারপাশের চরিত্র সব থমকে আছে। সেটাই ‘অতল’-এ পোট্রে করার চেষ্টা করেছি।

‘অতল’ যুবরাজ শামীমের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। এতে নাঈম তুষার অভিনয় করেছেন। যিনি পেশায় একজন এডিকশন প্রফেশনাল এবং প্যাশনেটলি ফটোগ্রাফার। তুষার অভিনয়ের পাশপাশি এই ছবির সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে যুবরাজ শামীম বলেন, ‘অতল’ মূলত আমাদের দুজনের জার্নি, আমরা দুজন একটা ক্যামেরা নিয়ে স্কুটিতে করে নানান জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি, যে জায়গাটার সঙ্গে আমরা কানেকশন অনুভব করেছি সেখানেই আমরা ক্যামেরা বসিয়েছি, তুষার ভাই ক্যামেরা ঠিকঠাক করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে, আমি শুধু ক্যামেরা অন অফ করেছি। আমি আসলে ছবি নির্মাণকে কবিতার মত করে দেখি। যেখানে একজন কবি কবিতা লিখবার পর কখনও আমাদের মনে হয় না এই কবিতার বাজেট কত! বরং কবিতা হয়ে ওঠার পেছনে কবির যাপন কিংবা আর্টের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে আমার কাছে আর্টের এই প্রক্রিয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বাজেট বা কাস্টিং কিংবা ছবির গল্প কোনকিছুই আমার কাছে গুরুত্ব বহন করে না।

নির্মাতা বলেন,“আমি সেই ছবিটাই বানাতে চাই যেই ছবিটা আমি দেখতে চাই। এর বাইরে আর কিচ্ছু ভাবি না।”

‘অতল’ ছবির সাউন্ড করেছেন রিপন নাথ, কালারে ছিলেন আব্দুল্লাহ্ রাকিব এবং পোস্টার করেছেন মেঘদলের শিবু কুমার শীল। যুবরাজ এই মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলামের প্রতি। তিনি জানান মোরশেদুল ইসলামের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া ছবিটা শেষ করা আরো কঠিন হতো।

‘অতল’-এর পোস্টার

প্রথম ছবির পর দ্বিতীয় ছবিও মস্কোতে প্রিমিয়ার, কেন? এ প্রসঙ্গে যুবরাজ বলেন, আমি যেবার (২০২৩) মস্কোতে জুরি হিসেবে গেলাম সেবছর মস্কো উৎসবের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ইভান কুদ্রিয়াভৎসেভের সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলাপ হয়, কথা প্রসঙ্গে ইভান আমাকে বলেন যখন একজন মা সুন্দর একটা গল্প বলেন তখন সন্তানেরা মায়ের পরের গল্পটা শোনার জন্য অপেক্ষা করে আমরা তেমনই আপনার পরের ছবিটার জন্য অপেক্ষা করছি। ইভানের কথায় আমি আপ্লুত হলেও ভেতরে ঠিকই ভেবেছি পরের ছবিটা আমি নতুন কোন উৎসবে প্রিমিয়ার করবো। কিন্তু কী আশ্চর্য! অতল ছবিটা ইফিসহ(গোয়া) বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে সিলেক্টেড হলেও আমি বেটার ফেস্টিভ্যালের আশায় তা রিজেক্ট করি, কারণ ইউরোপের বড় দুটি ফেস্টভ্যাল আমার ছবিটা কনসিডারেশনে রেখেছিল, যদিও শেষমেশ কোনটাই হয় নাই। এরপর মস্কোতেও সিলেক্ট হওয়ার পর ব্যক্তিগত জটিলতায় আমি রিজেক্ট করার সিদ্ধান্ত নেই, ওদেরকে মেইলও পাঠাই! কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ছবিটা অফিসিয়ালি রিজেক্ট হলো না। বুঝতে পারলাম মস্কোই ছবির গন্তব্য!

৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হচ্ছে আগামি ১৬ এপ্রিল, আর পর্দা নামছে ২৩ এপ্রিল। যুবরাজ জানান, উৎসবে যোগ দিতে তিনি এবং নাঈম তুষার আগামী ১৬ এপ্রিল দেশ ছাড়বেন এবং ১৯ এপ্রিল মস্কোতে ‘অতল’ ছবিটি প্রদর্শিত হবে।

Scroll to Top